SIR-এর চাপ নিতে না-পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত বিএলও, হাসপাতালে ভর্তি জয়নগরের প্রধান শিক্ষক

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর কাজের অতিরিক্ত চাপ নিতে না-পেরে এবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠল এক বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) বিরুদ্ধে। অসুস্থ ওই বিএলও’র নাম কমল নস্কর। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের হরিনারায়ণপুর ৩১ নম্বর বুথের বিএলও হিসাবে কাজ করছিলেন এবং পেশায় দুয়ের পল্লি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
হঠাৎ অসুস্থতা ও কারণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কমল নস্কর মোট ১১৬০টি এনুমারেশন ফর্ম এলাকার ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিলেও, তিনি ফর্ম সংগ্রহ করেছেন মাত্র ২০টি।
বিডিও-র নির্দেশ: শনিবার বিকেলে জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সমস্ত বিএলওদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠক থেকেই তিনি কড়া নির্দেশ দেন যে, ২৬ তারিখের মধ্যে সমস্ত বিএলওকে এসআইআর সংক্রান্ত ফর্ম সংগ্রহ করে জমা দিতে হবে।
হৃদরোগে আক্রান্ত: অভিযোগ, এই চরম কাজের চাপ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার দুশ্চিন্তা নিতে না-পেরে কমল নস্কর বাড়িতে আসার পরই হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।
অসুস্থ বিএলও ও বিধায়কের বক্তব্য:
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান স্থানীয় বিডিও, জনপ্রতিনিধিরা এবং জয়নগরের তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে অসুস্থ বিএলও কমল নস্কর বলেন:
“আমাকে ৪ তারিখ ফর্ম দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পাই ১৩ তারিখ। তাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সব ফর্ম বিলি করি। এরপর আমার ফর্ম তোলার কাজ ছিল। এরই মধ্যে চিন্তা ও কাজের চাপে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। এদিকে ২৫ তারিখের মধ্যে ফর্ম তুলে জমা দেওয়ার কথা।”
জয়নগরের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস পুরো ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে বলেন:
“এত অল্প সময়ের মধ্যে এসআইআর শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। তার ফলে কাজের প্রচুর চাপ বিএলওদের উপর এসে পড়েছে। এর জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন। অল্প সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে কমল নস্কর।”
বিধায়ক জানান, কমল নস্করের অবস্থার অবনতি হলে রবিবারই তাঁকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হবে।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া: ‘এসআইআর নিয়ে রাজনীতি বন্ধ হোক’
অন্যদিকে, জয়নগরের বিজেপি নেতা মিহির মণ্ডল বলেন, তৃণমূল নেতারা এসআইআর নিয়ে রাজনীতি করছেন। তিনি দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেন, “এসআইআর এই রাজ্যে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে। এসআইআর নিয়ে রাজনীতি করা বন্ধ হওয়া উচিত এবং এসআইআরে সহযোগিতা করা উচিত রাজ্যের শাসকদলের।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় স্বাভাবিক অর্থে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং অন্যান্য ব্লকের বিএলওরা কাজের চাপ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।