২০২১-এর শিক্ষা! বুথ স্তরে শক্তি বাড়াতে ৬ রাজ্যের অভিজ্ঞ নেতাদের হাতে বাংলার ভার, নয়া রণকৌশলে বিজেপি

বিহারে জয়লাভের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করে কোমর বেঁধে নামছে বিজেপি। ২০২১ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, এবার নিচুতলায় সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো এবং তৃণমূলের সঙ্গে পাল্লা দেওয়াই গেরুয়া শিবিরের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে গোটা রাজ্যকে সাংগঠনিকভাবে ছয়টি ভাগে ভাগ করে ভিন রাজ্যের অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতাদের হাতে এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে।

বিজেপি সূত্রে খবর, যে সমস্ত নেতারা অতীতে কঠিন নির্বাচনে দলকে সাফল্য এনে দিয়েছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মন্ত্রী এবং অভিজ্ঞ সাংগঠনিক নেতারা এবার বাংলায় নিজেদের ঘাঁটি গাড়বেন।

একনজরে কে পেলেন কোন এলাকার দায়িত্ব:

সাংগঠনিক অঞ্চলজেলাসমূহদায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাপদ ও রাজ্য
রাঢ় বঙ্গবাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমানপবন সাইসাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক, ছত্তীসগড়
ধন সিং রাওয়াত (সহকারী)মন্ত্রী, উত্তরাখণ্ড
হাওড়া-হুগলি-মেদিনীপুরহাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরপবন রানা (প্রধান দায়িত্ব)সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন), দিল্লি
হাওড়া ও হুগলিহাওড়া, হুগলিসঞ্জয় ভাটিয়াসিনিয়র নেতা, হরিয়ানা
দুই মেদিনীপুরপূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরজে পি এস রাঠৌরমন্ত্রী, উত্তর প্রদেশ
কলকাতা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণাদক্ষিণ কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগণাএম সিদ্ধার্থনসাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক, হিমাচল প্রদেশ
সি টি রবিতরুণ নেতা, কর্ণাটক
নবদ্বীপ ও উত্তর চব্বিশ পরগণামতুয়া ভোটব্যাঙ্ক সহ অঞ্চলএন মধুকরসাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক, অন্ধ্রপ্রদেশ
সুরেশ রানা (সহকারী)সিনিয়র নেতা, উত্তর প্রদেশ
উত্তরবঙ্গমালদহঅনন্ত নারায়ণ মিশ্রনেতা, অরুণাচল প্রদেশ
শিলিগুড়িশিলিগুড়ি অঞ্চলঅরুণ বিন্নাড়িসাংগঠনিক নেতা, কর্ণাটক
দার্জিলিং ও পাহাড়দার্জিলিং পার্বত্য এলাকাপ্রদীপ ভান্ডারিসর্বভারতীয় মুখপাত্র, বিজেপি
কোচবিহারকোচবিহারকৈলাস চৌধুরীপ্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

নতুন রণকৌশল:

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘দুশো পার’ স্লোগান তুলে বিজেপি যে ভুল করেছিল, এবার তা থেকে শিক্ষা নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। নতুন কৌশল অনুযায়ী, এবার আর কোনো বড় স্লোগান নয়, বরং চুপচাপ নিজেদের কৌশল সাজিয়ে তা বুথ স্তরে হাতেকলমে কার্যকর করতে চাইছে দল।

দায়িত্বপ্রাপ্ত এই সমস্ত সিনিয়র নেতারা ইতিমধ্যেই বাংলায় এসে পৌঁছেছেন বা দ্রুত পৌঁছবেন। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে সংগঠনের হাল ধরবেন এবং বুথ স্তরে দলের শক্তি বৃদ্ধি করবেন।