“১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা অনুদান!”-দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে নবান্নের নতুন ইঙ্গিত

রথযাত্রার পুণ্য তিথিতেই শহরজুড়ে শুরু হয়ে গেছে দুর্গাপুজোর প্রাক-প্রস্তুতি। পাড়ায় পাড়ায় খুঁটিপুজো আর প্যান্ডেলের কাঠামো গড়ার কাজ শুরুর সঙ্গেই তুঙ্গে উঠেছে দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান নিয়ে চর্চা। নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, গত বছরের তুলনায় এই বছর অনুদানের অঙ্ক বাড়তে পারে।
কত বাড়তে পারে অনুদান? প্রশাসনিক মহলের খবর অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিল। এবছর সেই অঙ্ক বেড়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা হতে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে। তবে সরকারিভাবে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা বাকি।
মুখ্যমন্ত্রীর নয়া কৌশল: এবারের অনুদান বণ্টন নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সব পুজো কমিটি সরকারি অনুদান পাবে না। শুধুমাত্র সেই সমস্ত পুজো কমিটিগুলিই আর্থিক সাহায্য পাবে, যাদের প্রকৃত অর্থে সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। অর্থাৎ, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর বা বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে এই অনুদানের আওতার বাইরে রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। ছোট ও মাঝারি বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।
অনুদান প্রদানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
২০১৮: প্রথমবার শুরু হয় অনুদান, তখন অঙ্ক ছিল ১০ হাজার টাকা।
২০২৫: অনুদানের পরিমাণ পৌঁছায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায়।
পরিসংখ্যান: গত বছর প্রায় ৪৫ হাজার পুজো কমিটি এই সরকারি অনুদান পেয়েছিল, যার জন্য রাজ্য সরকারের ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৪৯৫ কোটি টাকা।
কী থাকছে নতুন নির্দেশিকায়? অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, স্বচ্ছল পুজো কমিটিগুলি বাদ পড়লে অনুদানপ্রাপ্ত কমিটির সংখ্যা খুব একটা না কমলেও, প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে এমন আরও অনেক ছোট পুজো কমিটি এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কবে থেকে আবেদন শুরু হবে এবং কোন মানদণ্ডে অনুদান দেওয়া হবে, তা নিয়ে খুব শীঘ্রই নবান্ন বিস্তারিত নির্দেশিকা ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে বলে জানা গিয়েছে।
রথযাত্রায় রাজ্যের আর্থিক সহায়তার পর দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে সরকারের এই ইতিবাচক অবস্থানে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন ক্লাব কর্মকর্তারা। এখন কেবল সরকারি ঘোষণার অপেক্ষাতেই রাজ্যের হাজার হাজার পুজো কমিটি।