অভিনয়েই ইতি নয়! সহ-প্রযোজক হিসেবে নয়া ইনিংস শুরু বিক্রান্ত মেসির, দেখুন ‘মুসাফির ক্যাফে’-র অন্দরের গল্প

ভারতীয় বিনোদন জগতের অন্যতম প্রতিভাধর অভিনেতা বিক্রান্ত মেসি এখন সাফল্যের শিখরে। জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই তারকা এবার অভিনেতা ছাপিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চলেছেন একজন সহ-প্রযোজক হিসেবে। তাঁর আসন্ন ওয়েব সিরিজ ‘মুসাফির ক্যাফে’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার নেপথ্যে থাকা এই নতুন যাত্রা নিয়ে অভিনেতা যথেষ্ট আশাবাদী।

প্রযোজক হিসেবে প্রথম অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বিক্রান্ত জানান, সহ-প্রযোজক ‘টেরিবলি টাইনি টেলস’ এবং লেখিকা শরণ্যা রাজাগোপালের উপস্থিতি তাঁর কাজকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে। টেকনিক্যাল খুঁটিনাটি সামলানোর দায়ভার তাঁরা নেওয়ায় বিক্রান্ত নিজেকে পুরোপুরি অভিনয়ে নিবেদিত করতে পেরেছেন। এই সিরিজে বেদিকা পিন্টো এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মী মহিমা মাকওয়ানার সঙ্গে তাঁর অনস্ক্রিন রসায়ন দর্শকদের নজর কাড়বে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। ‘বালিকা বধূ’-র স্মৃতিমেদুর মহিমার সঙ্গে কাজ করা তাঁর কাছে এক বিশেষ প্রাপ্তি।

নারী পরিচালক বা লেখকদের সঙ্গে কাজ করার প্রশ্নে বিক্রান্তের দর্শন বেশ স্পষ্ট। তিনি লিঙ্গভেদে বিশ্বাসী নন, বরং চিত্রনাট্যের গুণগত মানই তাঁর কাছে চূড়ান্ত। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, নারী নির্মাতাদের গল্পে মানুষের আবেগ, সম্পর্ক এবং সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক স্তরগুলো ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এক অনন্য সংবেদনশীলতা থাকে, যা প্রথাগত গল্পের চেয়ে কিছুটা আলাদা। জোয়া আখতার, অলঙ্কৃতা শ্রীবাস্তব থেকে মেঘনা গুলজার—তাঁদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতায় এই বিশেষত্ব তিনি বারবার উপলব্ধি করেছেন।

জাতীয় পুরস্কার তাঁর জীবনে কোনো অতিরিক্ত চাপের জন্ম দেয়নি, বরং দায়িত্ববোধ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পাওয়া এই সম্মানকে তিনি কোনো গন্তব্য না ভেবে বরং দীর্ঘ যাত্রাপথের একটি মাইলফলক হিসেবেই দেখছেন। বিক্রান্ত বলেন, “পুরস্কার মানেই সব নয়, আসল লক্ষ্য হলো অর্থপূর্ণ গল্পের মাধ্যমে মানুষের জীবন স্পর্শ করা।” এই সম্মানের পর তাঁর কাছে ভালো স্ক্রিপ্টের সংখ্যা বাড়লেও, চিত্রনাট্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি এখনো আগের মতোই কঠোর।

সাফল্যের আড়ালে নিজের কাজের প্রতি এখনো ‘সেলফ-ডাউট’ বা দ্বিধা কাজ করে তাঁর মনে। প্রতিটি প্রজেক্টের ট্রেলার মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি এখনো সমানভাবে উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে নিজের ওপর আস্থা রেখেই ‘প্রীতম অ্যান্ড পেড্রো’-র মতো সিরিজে কাজ করেছেন। লেখক হিসেবে রাজকুমার হিরানির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে তিনি ক্যারিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা বলে মনে করেন।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হিসেবে নিজের প্রযোজনা সংস্থা ‘হোমমেড স্টোরিজ’-কে তিনি নতুনদের জন্য এক আদর্শ প্ল্যাটফর্ম করে তুলতে চান। ২০ বছর আগে কেউ তাঁর ওপর বিশ্বাস রেখেছিল বলেই আজ তিনি বিক্রান্ত মেসি হতে পেরেছেন। সেই একই সুযোগ তিনি নবাগত অভিনেতা ও নির্মাতাদের দিতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া ভবিষ্যতে পরিচালনার জগতে আসার তীব্র ইচ্ছা থাকলেও, আপাতত অভিনয় ও প্রযোজনার ওপর পূর্ণ ফোকাস বজায় রাখতে চান এই তারকা।