ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাভাস? লোহিত সাগর বন্ধ করতে হুথিদের সাহায্য নিচ্ছে তেহরান!

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ এখন লোহিত সাগর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকার সম্ভাব্য আক্রমণের মোকাবিলায় ইরান লোহিত সাগরে নৌ-চলাচল ব্যাহত করতে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘হুথি’দের ব্যবহার করতে পারে। এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই এই পরিকল্পনা নিয়ে হুথি নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছে। যদিও সরকারিভাবে এই বিষয়ে ইরান বা হুথি—কোনো পক্ষই মুখ খোলেনি, তবে পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
হুথি গোষ্ঠীর এক ঘনিষ্ঠ সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থান ‘বাব এল-মানদেব’ প্রণালীতে বিপুল পরিমাণ ড্রোন এবং বিধ্বংসী মিসাইল মজুত করা হয়েছে। নির্দেশ পাওয়া মাত্রই এই মারণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই জলপথটি যদি যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তবে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যেই ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত স্তব্ধ হয়ে আছে। লোহিত সাগরের পরিস্থিতি উত্তাল হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্রতর হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য চরম বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পক্ষ থেকে হামলা অব্যাহত রয়েছে। কাতারের দোহায় বিকট বোমার শব্দে কেঁপে উঠেছে আকাশ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কুয়েত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সক্রিয় (Active) করে তুলেছে। পালটা জবাব দিচ্ছে আমেরিকাও। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরানের বন্দর শহর ‘বন্দর খামির’-এর একটি সেতুর ওপর আমেরিকা বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় কমপক্ষে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও আমেরিকার এই সরাসরি সংঘাত ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমেরিকা যেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে ইরানকে চাপে রাখতে চাইছে, সেখানে ইরান হুথিদের মতো প্রক্সি যোদ্ধাদের ব্যবহার করে পাল্টা ব্যুহ রচনা করছে। লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক করিডোরে এই প্রক্সি যুদ্ধের বিস্তার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বর্তমানে বিশ্ব তাকিয়ে আছে পরিস্থিতির দিকে—আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং ইরান এই রণকৌশল ব্যবহার করে যুদ্ধকে কতটা দীর্ঘায়িত করতে চায়, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। লোহিত সাগরে কোনো অঘটন ঘটলে তা যে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের স্থিতিশীলতাকে নড়বড়ে করে দেবে, তাতে সন্দেহ নেই।