১৯ ঘণ্টা অতিক্রান্ত, এখনও নিখোঁজ বহু! তারাতলা বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজে কি ফাঁকফোকর?

তারাতলায় নির্মাণাধীন গোডাউন ধসে পড়ার ঘটনায় ভয়াবহ বিপর্যয় অব্যাহত। বুধবারের সেই দুর্ঘটনার পর ১৯ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। ধীর লয়ে কিন্তু অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ, দমকল, সেনা এবং এনডিআরএফ-এর যৌথ বাহিনী। সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কিছু মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মোট ৩১ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ এখন চরমে। ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে প্রহর গুনছেন স্বজনরা, আশায় বুক বাঁধছেন যদি কোনো অলৌকিক খবর আসে। বারাকপুরের সুমন কর্মকার, যিনি বুধবারই প্রথম এই সাইটে কাজে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী শিখা কর্মকার হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেও স্বামীর দেখা পাননি। দুর্ঘটনার দিন সকাল ১১টা নাগাদ শেষবার ভিডিও কলে কথা হয়েছিল দুজনের। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন দিশেহারা শিখার চোখের জল যেন শুকিয়ে গিয়েছে।

একই অবস্থা শ্যামনগরের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডলের পরিবারের। যিনি তাঁকে কাজে নিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি উদ্ধার হওয়ার পর স্বপন নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জামাই অমিয় সামন্ত জানিয়েছেন, তিনি একাধিক হাসপাতালে গিয়েও শ্বশুর মশাইয়ের নাম না পেয়ে আবার ঘটনাস্থলে ফিরে এসেছেন। পূর্ব বর্ধমানের রানীগঞ্জের বাসিন্দা নবীন সিং, যিনি ঢালাই মেশিনের চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তাঁকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে এবং আত্মীয়রা রানীগঞ্জ থেকে এসে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষায় রয়েছেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে নির্মাণকাজের গুণমান এবং নিরাপত্তার মানদণ্ড নিয়ে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, উদ্ধারকাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি এবং গোডাউনের কাঠামো বিশাল, তাই ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে গিয়ে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। এনডিআরএফ এবং সেনার প্রযুক্তি ব্যবহার করেও নিখোঁজদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ক্ষীণ হচ্ছে আশা।