কাশ্মীর নিয়ে মোক্ষম চাল আমেরিকার! সার্জিও গোরের মন্তব্যে কাঁপছে পাকিস্তান, বড় ইঙ্গিত ওয়াশিংটনের

কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক ধাক্কা দিল আমেরিকা। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য পাকিস্তান থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। শ্রীনগরে গিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকের পর গোর সরাসরি ঘোষণা করেন, “জম্মু-কাশ্মীর ভারতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” রাষ্ট্রদূতের এই এক লাইনের মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে পাকিস্তানের কূটনৈতিক কৌশলের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।

গোরের এই মন্তব্যের পরই রাগে ফুঁসতে থাকা পাকিস্তান তড়িঘড়ি মার্কিন দূতাবাসের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায়। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, গোরের এই বক্তব্য ‘তথ্যাগতভাবে ভুল’ এবং ‘অদায়িত্বশীল’। তারা পুরোনো একঘেয়ে সুরে ফের রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাব এবং তথাকথিত ‘বিতর্কিত অঞ্চল’ তত্ত্বের ধোঁয়া তুলে দাবি করে যে, এই বক্তব্য আমেরিকার দীর্ঘদিনের কাশ্মীর নীতির পরিপন্থী। পাকিস্তান এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরোনো মধ্যস্থতার প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে ওয়াশিংটনকে চাপে রাখার চেষ্টাও করেছে।

তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সফর ও মন্তব্য কি শুধুমাত্র কোনো স্থানীয় সৌজন্য ছিল, নাকি এর পেছনে রয়েছে আমেরিকার গভীর কৌশলগত বদল? গোর শুধুমাত্র কাশ্মীরকে ভারতের অংশ বলেই থামেননি, তিনি সেখানকার শান্তি ও নিরাপত্তার উন্নতি নিয়েও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কাশ্মীরের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আমেরিকা তাদের কঠোর ‘ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি’ বা ভ্রমণ সতর্কবার্তা পর্যালোচনা করার কথা ভাবছে। বর্তমানে সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কাশ্মীর আমেরিকার কাছে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঝুঁকি বা ‘রেড জোন’ তালিকায় রয়েছে। গোরের ইঙ্গিত, অদূর ভবিষ্যতে এই অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

ভারত ও আমেরিকার ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কের এই আবহে গোরের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নয়াদিল্লির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি শ্রীনগরে তাঁর এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এখন কাশ্মীরকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে অমীমাংসিত ‘বিতর্কের ইস্যু’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে ভারতের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখার মানসিকতা তৈরি করছে।

পাকিস্তানের কাছে এটি শুধু শব্দের লড়াই নয়, বরং অস্তিত্বের সংকট। আমেরিকা যদি তাদের ভ্রমণ নির্দেশিকায় পরিবর্তন আনে এবং কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করে, তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের পুরোনো দাবিগুলো পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। এখন প্রশ্ন একটাই—ওয়াশিংটনের এই নতুন ভাষা কি কাশ্মীর ইস্যুতে আমেরিকার স্থায়ী নীতি পরিবর্তনের বার্তা, নাকি ভূ-রাজনীতির স্বার্থে এক সাময়িক পদক্ষেপ? এই প্রশ্নের উত্তরই ঠিক করে দেবে দক্ষিণ এশিয়ার আগামী দিনের আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণ।