দেড়শো শিল্পীর বেহালায় এক সুরে বাঁধল বিশ্ব ও ভারতীয় সঙ্গীত! কলকাতার এই অর্কেস্ট্রার সাফল্য জানেন কি?

২০১৫ সালে বিশিষ্ট বেহালা বাদক অমিতাভ ঘোষের হাত ধরে জন্ম নেওয়া ছোট্ট একটি দল আজ মহীরূহে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও পরিচিতি অর্জন করেছে কলকাতার জনপ্রিয় স্ট্রিং অর্কেস্ট্রা ‘কলকাতা ইয়ূথ এনসেম্বল’ (KYE)। গত ৩১ জুলাই, ২০২৬ রবীন্দ্র সদনে তাদের ১১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হলো বার্ষিক মহা সঙ্গীতানুষ্ঠান—“Waves Of Onze”।

এদিনের এই জমকালো অনুষ্ঠানে একসঙ্গে মঞ্চ মাতান প্রায় দেড়শো জন শিল্পী। বিভিন্ন বয়স ও পেশার সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পীদের মিলিত সুরের যাদুতে মুগ্ধ হন উপস্থিত সঙ্গীতপ্রেমীরা। অমিতাভ ঘোষের পরিচালনায় এই বিশেষ সন্ধ্যাটি উৎসর্গ করা হয়েছিল ভারতীয় শিল্প ও সঙ্গীতের চার কিংবদন্তি—সত্যজিৎ রায়, বিদুষী অন্নপূর্ণা দেবী, আশা ভোঁসলে এবং সলিল চৌধুরীর শতবর্ষের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। এছাড়া বহু বিশিষ্ট পাশ্চাত্য সুরকারদেরও শ্রদ্ধা জানানো হয় এই বিশাল আয়োজনের ভোকাল সিম্ফনির মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল, ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল এবং আধুনিক সঙ্গীতের অপূর্ব মেলবন্ধন। আশা ভোঁসলের গলায় বহুচর্চিত গানগুলি যখন যন্ত্রসঙ্গীতের মাধ্যমে পরিবেশিত হয়, তখন এক অন্য মাত্রা যোগ হয় আসরে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়ার্ধে যন্ত্রসঙ্গীতের সঙ্গে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ফিউশনে তৈরি হয় এক নতুন সিম্ফনি।

এদিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয় বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী বিভা সেনগুপ্তকে। অর্কেস্ট্রার সঙ্গে মঞ্চে গান গেয়ে শ্রোতাদের মন জয় করেন ইন্দ্রানী সেন (পরিবেশন করেন ‘চোখের আলোয় দেখেছিলেম’), জয় সরকার (নিজের সুরে ‘বৃষ্টি পায়ে পায়ে’) এবং বিভা সেনগুপ্ত (পরিবেশন করেন ‘তবু মনে রেখো’)। পুরো অনুষ্ঠানটির অসাধারণ সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ ১১ বছরের এই পথচলায় কলকাতার এই অর্কেস্ট্রা আজ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে, যা বাংলা তথা দেশের সংস্কৃতির মানচিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করল।