বেঙ্গল সাফারি পার্কে নতুন অতিথি! দার্জিলিং থেকে এল বিরল সাদা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ‘নাগমণি’

শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কের আকর্ষণ বাড়াতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্যের বনদপ্তর। পর্যটকদের জন্য এক নতুন চমক নিয়ে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে পৌঁছাল বিরল সাদা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ‘নাগমণি’। সেন্ট্রাল জু অথরিটির নির্দেশ মেনে প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির অধীনে দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্ক থেকে পাকাপাকিভাবে এই পুরুষ বাঘটিকে আনা হয়েছে। বিনিময়ে বেঙ্গল সাফারি থেকে ‘এসটু’ নামের এক পুরুষ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে দার্জিলিংয়ে পাঠানো হচ্ছে।
গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবারই এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দার্জিলিংয়ের পর্যটন মরশুমের তীব্র যানজটের কারণে সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার গ্রিন করিডোর তৈরি করে অত্যন্ত নিরাপত্তার সাথে নাগমণিকে শিলিগুড়িতে আনা হলো। শুক্রবার একই পদ্ধতিতে ‘এসটু’-কে দার্জিলিংয়ের চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে বেঙ্গল সাফারি পার্কের পশু চিকিৎসক, রেঞ্জার পদমর্যাদার আধিকারিক এবং অভিজ্ঞ কর্মীদের নিয়ে ১০ জনের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট এবং দার্জিলিং জেলা পুলিশের সমন্বয়ে এই গ্রিন করিডোর তৈরি করা হয়েছে।
কেন এই অদলবদল? বনদপ্তর সূত্রে খবর, মূলত বাঘেদের ‘ব্লাডলাইন’ বা জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখার জন্যই এই উদ্যোগ। নাগমণির জন্ম ২০১৬ সালে হায়দরাবাদের নেহরু জুওলজিক্যাল পার্কে। ২০২৪ সালে সে দার্জিলিংয়ে আসে এবং দ্রুত সেখানকার পরিবেশ ও পর্যটকদের মন জয় করে নেয়। অন্যদিকে, বেঙ্গল সাফারি থেকে দার্জিলিংয়ে যাওয়া ‘এসটু’ ২০১৪ সালে সাফারিতেই জন্ম গ্রহণ করেছিল। সাফারি পার্কের আদি বাঘিনী শিলার সন্তান সে। এই বিনিময়ের ফলে বেঙ্গল সাফারি পার্কে বাঘের মোট সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকছে।
রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও জানিয়েছেন, “প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির অধীনে এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নাগমণিকে বেঙ্গল সাফারিতে আনার পর তাকে কিছুদিন কোয়ারান্টাইনে রাখা হবে। নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে যাতে তার কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য কিপারদের কড়া নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে।” একইভাবে দার্জিলিংয়ে যাওয়ার পর ‘এসটু’-কেও নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় যেমন নাগমণি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, তেমনি বেঙ্গল সাফারিতেও সে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। এই সাদা বাঘের উপস্থিতি সাফারি পার্কের আকর্ষণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছে ওয়াইল্ডলাইফ মহলের একাংশ। এখন কেবল অপেক্ষা, কোয়ারান্টাইন পর্ব শেষ করে নাগমণি কবে পর্যটকদের সামনে নিজের রাজকীয় রূপ মেলে ধরে।