১৭ হাজার কোটির বকেয়া বিল, বিপদে পড়ে ফের সৌদি আরবের ‘ভিক্ষা’ চাইল পাকিস্তান

চরম আর্থিক সংকটের মুখে ফের বড়সড় বিপদের মুখে পাকিস্তান। চিনা সংস্থাগুলির পাওনা বিদ্যুৎ বিল মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কায় কাঁপছে ইসলামাবাদ। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, যে কোনো মুহূর্তে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে বেজিং। বকেয়া বিলের পরিমাণ ১৭,০০০ কোটি পাকিস্তানি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় এখন সৌদি আরবের কাছে আর্থিক সহায়তার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে শাহবাজ শরিফের সরকার।

কেন এই পরিস্থিতি?
চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (CPEC) প্রকল্পের অধীনে গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করেছে চিন। চুক্তিমতো এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির বিল চিনা সংস্থাকে দেওয়ার কথা পাকিস্তানের। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই বিল না মেটানোর ফলে বকেয়ার পাহাড় জমেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আর্থিক বছরেই বকেয়া বিলের অঙ্ক ৪২,৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চিনের তরফে বারবার চাপ দেওয়া সত্ত্বেও টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এখন বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধের মুখে দেশটি।

সৌদির কাছে কেন বারবার হাত পাতছে পাকিস্তান?
পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক দৈন্যদশার কথা কারও অজানা নয়। ডলারের নিরিখে পাকিস্তানি টাকার দাম তলানিতে (২৭৭ টাকা)। এই অবস্থায় ঋণের বোঝা মেটাতে রিয়াধের কাছে ১,০০০ কোটি ডলারের নতুন ঋণের আর্জি জানিয়েছে ইসলামাবাদ। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াধও বর্তমানে নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং লোহিত সাগর সংলগ্ন সামুদ্রিক রুটগুলোতে অস্থিরতা সৌদির অর্থনীতিকেও চাপের মুখে ফেলেছে।

ভবিষ্যৎ কী?
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যদি সময়মতো চিনের বকেয়া বিল মেটাতে না পারে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে চিনের কাছে তাদের ঋণের বোঝা ৩,০৬০ কোটি ডলারে পৌঁছে যাবে। একেই ‘ঋণের ফাঁদ’ (Debt Trap) হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। চিনা সংস্থাগুলির সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হওয়া মানেই পাকিস্তানের জ্বালানি পরিকাঠামো ভেঙে পড়া। অন্যদিকে, আইএমএফ (IMF)-এর কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার শর্ত পূরণ করতে হলেও পাকিস্তানকে বৈদেশিক অর্থের উৎস নিশ্চিত করতে হবে।

একদিকে চিনের কঠোর মনোভাব, অন্যদিকে সৌদি আরবের কাছ থেকে ঋণের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে বর্তমান শাহবাজ প্রশাসন এক ভয়ংকর ‘ত্রিভুজ সংকটে’ আটকা পড়েছে। বিদ্যুৎহীন অন্ধকারের হাতছানি এখন পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।