পদত্যাগ করলেন তৃণমূল সাংসদ কোয়েল মল্লিক, জল্পনাই সত্যি হলো!

পশ্চিমবঙ্গ ও জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষিতে আজ এক বড়সড় চমকপ্রদ খবর। রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কোয়েল মল্লিক। এর আগে দলের বর্ষীয়ান ও হেভিওয়েট নেতারা একের পর এক পদত্যাগ করায় দলের অন্দরে যে অস্থিরতা চলছিল, কোয়েলের এই সিদ্ধান্তে তা আরও স্পষ্ট হলো।
পদত্যাগের সারি গত কয়েকদিনে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক ভূমিকম্পের মতো ঘটনা ঘটছে। দলের একের পর এক সাংসদ উচ্চকক্ষের সদস্যপদ ছাড়ছেন। এই তালিকায় নাম রয়েছে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের। তাঁদের পথ অনুসরণ করেই আজ পদত্যাগ করলেন কোয়েল মল্লিক। যদিও কোয়েলের পদত্যাগের কারণ নিয়ে এখনও পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে বা ব্যক্তিগতভাবে কোনো স্পষ্ট বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে জল্পনা।
তৃণমূলের শক্তি হ্রাস রাজ্যসভায় এতদিন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৩ জন সদস্য ছিলেন। তবে গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহে ৪ জন সাংসদ ইস্তফা দেওয়ায় সেই সংখ্যা কমে ৯-এ নেমে এল। কোয়েল মল্লিকের এই পদত্যাগ সংসদীয় ক্ষেত্রে তৃণমূলের শক্তিবৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক জল্পনার কেন্দ্রে কোয়েল সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক পদত্যাগের পরপরই কোয়েল মল্লিকের নাম নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। যদিও সেই সময় খবরটি সঠিক ছিল না বলে জানা গিয়েছিল, তবে জল্পনা যে অমূলক ছিল না, তা আজ প্রমাণিত।
এই একের পর এক পদত্যাগ কি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রতিফলন, নাকি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কোনো বড় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ? এই প্রশ্নই এখন রাজ্যজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। সব মিলিয়ে, আগামী দিনে রাজ্যসভার অন্দরে ও তৃণমূলের অন্দরে সমীকরণ যে দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট।