ইসকনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নজির গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী, শিলিগুড়ি থেকে কলকাতায় ছড়াবে সেবার নতুন দিশা

পবিত্র রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে রাজ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রথযাত্রার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি ঘোষণা করলেন, বাংলার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ইসকনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রাজ্য সরকার এক বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইসকন বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণের মহৎ দায়িত্ব পালন করছে। সেই মডেল এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গেও। আগামী ১ আগস্ট থেকে কলকাতা মহানগরীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এই উদ্যোগ কার্যকর হবে, যা বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য বলে গণ্য করছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন রথযাত্রার উৎসবে পশ্চিমবঙ্গবাসীর উদ্দেশে শুভেচ্ছা বার্তা দেন। তবে শুভেচ্ছার পাশাপাশি তাঁর বক্তৃতায় উঠে আসে রাজ্যের সামগ্রিক বিকাশে আধ্যাত্মিক ও সেবাধর্মী সংস্থাগুলোর ভূমিকার কথা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, উন্নয়ন মানেই যে কেবল সরকারি আধিকারিক বা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজ, এই গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বর্তমান প্রশাসন। বাংলার নবনির্মাণে ইসকন, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো আধ্যাত্মিক ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে সরকার এগিয়ে যেতে চায়। মানুষের সেবায় নিবেদিত এই সংগঠনগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যকে আরও সমৃদ্ধ করাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
রথযাত্রার এই পবিত্র দিনে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। একদিকে ইসকনের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে শিক্ষার পরিকাঠামোয় যুক্ত করা, অন্যদিকে ধর্মীয় ও সেবামূলক সংগঠনগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প রূপায়ণের পরিকল্পনা—এই দুইয়ের মেলবন্ধন বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের বাজেট বক্তৃতায় যে প্রতিশ্রুতির কথা মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছিলেন, তার দ্রুত বাস্তবায়ন যে শুরু হতে চলেছে, তা আজকের ঘোষণায় পরিষ্কার। সব মিলিয়ে রথযাত্রার মঞ্চ থেকে শিক্ষা ও উন্নয়নের এক সমন্বিত মডেল উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।