ভারতীয় শেয়ার বাজারে এক নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে এল। দেশের অন্যতম সফল স্বর্ণ ও রত্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘রাজেশ এক্সপোর্টস’-এর বিরুদ্ধে প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এই বিশাল অঙ্কের কেলেঙ্কারির জেরে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI) কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ৩ জুন থেকে রাজেশ এক্সপোর্টস এবং সংস্থার চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতাকে শেয়ার বাজারে কেনাবেচা ও কার্যক্রমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সেবির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অভিযোগ, টানা পাঁচ বছর (২০২১-২০২৫) ধরে সংস্থাটি তাদের আর্থিক নথিপত্রে কারচুপি করেছে। বিদেশের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে নিজেদের আয়কে অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছিল। সেবির তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ বছরে ঘোষিত আয়ের প্রায় ৯৭-৯৯ শতাংশই এসেছে বিদেশী সাবসিডিয়ারিগুলো থেকে, যার বড় অংশই সুইৎজারল্যান্ডের ভ্যালক্যামবি এসএ (Valcambi SA) সংক্রান্ত। কিন্তু তদন্তকারী ফরেন্সিক অডিটররা নথি যাচাই করতে গিয়ে দেখেন, ঘোষিত আয়ের সঙ্গে প্রকৃত আয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই। আয়ের তথ্যে প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার গরমিল ধরা পড়েছে, যা দেশের কর্পোরেট ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জালিয়াতি বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু আয়ের গরমিলই নয়, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে সংস্থার বিরুদ্ধে। অডিটরদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র, গ্রাহক ও ভেন্ডারদের তথ্য এবং লেনদেনের রেকর্ড দিতে সংস্থাটি গড়িমসি করেছে। এমনকি আফ্রিকার একটি স্বর্ণখনিতে ১,০৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাননি তদন্তকারীরা। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ‘অ্যাফ্লুয়েন্স শেয়ার অ্যান্ড স্টকস’ নামক একটি সংস্থার সঙ্গে ১১,০০০ কোটি টাকারও বেশি লেনদেনের কথা উল্লেখ থাকলেও, তারা এমন কোনো লেনদেনের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। এছাড়াও, সংস্থার তহবিল থেকে টাকা সরিয়ে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের মার্চ মাসে, যখন বিনিয়োগকারীরা তাদের দীর্ঘদিনের পাওনা নিয়ে অভিযোগ জানান। এরপর অক্টোবর মাসে সেবি ফরেন্সিক অডিট শুরু করে। এই খবরের পর বৃহস্পতিবারই বাজারে সংস্থার শেয়ার দরে ৫ শতাংশ পতন দেখা গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে সেবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা দালাল স্ট্রিটে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।





