১৪-১৫ বছর বয়সী কিশোরীদের এইচপিভি টিকা, ক্যান্সার প্রতিরোধে ঐতিহাসিক উদ্যোগ

রাজ্যে জরায়ুমুখের ক্যান্সার বা সারভাইক্যাল ক্যান্সার নির্মূলে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, রাজ্যের ৮৮০টি কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে এইচপিভি (HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মূলত ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীদের এই টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

চিকিৎসকদের বিশেষ প্রতিক্রিয়া: রাজ্য সরকারের এই জনস্বাস্থ্যমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের বিশিষ্ট ক্যান্সার চিকিৎসকরা। বিশিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা: গৌতম মুখোপাধ্যায়ের মতে, এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত। চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা: পার্থ নাথও এই উদ্যোগকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে অভিহিত করেছেন।

কেন এই টিকা গুরুত্বপূর্ণ? সারভাইক্যাল ক্যান্সার মূলত ‘হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস’ (HPV)-এর সংক্রমণের ফলে হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যা টিকা নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। ডা: মুখোপাধ্যায় জানান, এই টিকা প্রধানত HPV-16 সহ আরও বেশ কিছু ক্ষতিকর স্ট্রেন থেকে সুরক্ষা দেয়। যদিও টিকা নিলে রোগ হবে না, এমন গ্যারান্টি দেওয়া যায় না, তবে এটি নিলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কয়েক গুণ কমে যায়।

টিকাকরণের সঠিক বয়স ও সময়: বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই টিকার কার্যকারিতা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে। ডা: মুখোপাধ্যায়ের কথায়, “যৌন সক্রিয়তা শুরুর আগেই এই টিকা নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।” ডা: পার্থ নাথের মতে, বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসার দৌলতে ক্যান্সারে আক্রান্তদের আয়ু বাড়লেও, প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই।

প্রশাসনের লক্ষ্য: রাজ্য সরকার বিনামূল্যে এই টিকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করায় নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত—সবস্তরের মহিলারা এই সুরক্ষা কবচ পাবেন। স্বাস্থ্য দফতরের মতে, টিকাকরণ কর্মসূচি সঠিক সময়ে সম্পন্ন হলে আগামী দিনে রাজ্যে সারভাইক্যাল ক্যান্সারে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

অভিভাবকদের প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আর্জি, কুসংস্কার বা দ্বিধা কাটিয়ে আপনাদের কন্যা সন্তানকে অবশ্যই এই জীবনদায়ী টিকা প্রদান করুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy