১১ বছর পর সেশেলস সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী: জাতীয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তীতে ‘সম্মানিত অতিথি’

ভারত ও সেশেলসের মধ্যে ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগামী ২৭ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সেশেলস যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেশেলসের জাতীয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রীকে ‘সম্মানিত অতিথি’ হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর মোদীর এই সফর ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সফরসূচি ও গুরুত্ব সেশেলসের প্রেসিডেন্ট ড. প্যাট্রিক হারমিনির আমন্ত্রণে এই সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পাশাপাশি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। এই সফরের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে সেশেলসের জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভাষণ এবং প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় অনুষ্ঠান।

সামরিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন সেশেলসের এই সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে বিশেষ চমক হিসেবে থাকছে ভারতীয় নৌবাহিনীর অংশগ্রহণ। প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি বিশেষ দলসহ দুটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ এই উদযাপনে যোগ দেবে, যা দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার এক অনন্য নিদর্শন।

কৌশলগত অংশীদার ভারত ও সেশেলস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সেশেলস ভারতের এক অন্যতম প্রধান মেরিটাইম পার্টনার। ভারতের ‘ভিশন ওশান’ (SAGAR – Security and Growth for All in the Region) এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর লক্ষ্য অর্জনে সেশেলস একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেশেলসের প্রেসিডেন্ট ড. প্যাট্রিক হারমিনি ভারত সফর করেছিলেন, যা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন পথ প্রশস্ত করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মোকাবিলায় এবং ভারতের ‘ওশান ভিশন’-কে আরও কার্যকর করতে একটি সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ।