“ধর্ষকের এমন পরিণতিই কাম্য!” পুলিশি এনকাউন্টারে অভিযুক্তের মৃত্যুতে মুখ খুললেন রত্না দেবনাথ

বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় চলছে। এই ঘটনায় যেমন একদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে মৃতার ন্যায়বিচারের আশায় থাকা পরিবারগুলো একে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এই পুরো পরিস্থিতির মধ্যে সবচেয়ে চর্চিত বিষয় হলো, অপরাধের বিরুদ্ধে দুই মায়ের অবস্থান। আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ যেমন পুলিশের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, তেমনই অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মা-ও নিজের ছেলের মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
পুলিশের এই এনকাউন্টার প্রসঙ্গে রত্না দেবনাথ সরাসরি নিজের মত প্রকাশ করে বলেন, “পুলিশ খুব ভালো কাজ করেছে। একজন ধর্ষক ও খুনি শেষ হয়েছে। যদি এভাবেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবেই ভবিষ্যতে আমাদের বাচ্চা মেয়েদের রক্ষা করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও যুক্ত করেন, পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল। রত্নার মতে, পুলিশ এখানে আত্মরক্ষার্থেই ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, “আমি মনে করি, এটাই প্রকৃত আইনের শাসন।”
অন্যদিকে, এই ঘটনার এক মানবিক ও নৈতিক দিক উন্মোচিত হয়েছে যখন নিহতের মা নিজের ছেলের অপরাধের তীব্র নিন্দা জানান। খবর পাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ছেলের মৃতদেহ গ্রহণ করবেন না। শোকাতুর কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি ওর দেহ দেখতে চাই না। ও যা জঘন্য কাজ করেছে, তাতে ওর মৃত্যুতে আমি শান্তি পেয়েছি। ও কখনও কারো কথা শোনেনি, নেশায় আসক্ত ছিল।” নিজের ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের বোঝা সহ্য করতে না পেরে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি পুলিশের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছেন।
অভিযুক্তের মায়ের এই কঠোর ও সাহসী অবস্থানের কথা জানার পর আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ তাঁকে ‘সাহসী ও প্রতিবাদী মা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তিনি বুকে পাথর চেপে এই কথা বলছেন। মা হিসেবে তাঁর কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক, কিন্তু অপরাধের বিরুদ্ধে তিনি যে মেরুদণ্ড সোজা করে প্রতিবাদ দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। নিজের সন্তান অপরাধী হলে যে তাকে সাজা পেতে হয়, এই বার্তাই তিনি পুরো সমাজের সামনে তুলে ধরেছেন।”
বারুইপুরের এই ঘটনা একদিকে যেমন অপরাধীদের মনে ভয়ের বার্তা পাঠাল, তেমনই সমাজের সর্বস্তরে এক গভীর নৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যেখানে নিজের সন্তান অপরাধী প্রমাণিত হওয়ার পর মা নিজেই বিচারের পক্ষ নিলেন, তা এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।