“পুলিশের ওপর পুরো ভরসা ছিল,” এনকাউন্টারের পর বিস্ফোরক মন্তব্য নাবালিকা খুনের বাবার

বারুইপুরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও নৃশংস খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণে গিয়েছিল বারুইপুর থানার পুলিশ। অভিযোগ, সেই সময়ই পুলিশের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। শুধু তাই নয়, পুলিশকে লক্ষ্য করে সে এক রাউন্ড গুলিও চালায়। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পালটা গুলি চালালে গুরুতর জখম হয় প্রভাস। দ্রুত তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই এনকাউন্টারের খবর সামনে আসতেই একদিকে যেমন বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তেমনই মৃত নাবালিকার পরিবারে যেন এক অদ্ভুত স্বস্তি ও কিছুটা স্বরুপ ন্যায়বিচারের তৃপ্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিহতের বাবা এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, পুলিশের ওপর এবং রাজ্য সরকারের ওপর তাঁদের অটল বিশ্বাস রয়েছে।

তিনি বলেন, “পুলিশের ওপর আমাদের পুরো ভরসা আছে। সরকারের ওপর আস্থা ছিল এবং আছে। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং তিনি যেভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত খুশি। পুলিশি সহায়তা না পেলে আমরা এতদিন এগোতেই পারতাম না। এই তদন্তে আমরা সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চেয়েছিলাম অপরাধীরা কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি পাক। সেই আকাঙ্ক্ষার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এই ঘটনাকে দেখছি। যারা এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের প্রত্যেকেই যেন ধরা পড়ে, সেটাই আমাদের দাবি।”

মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে আবেগতাড়িত বাবা বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে ‘দাদা’ বলেই সম্বোধন করি। দাদার ওপর আমাদের অসীম ভরসা। তিনি আমাদের কথা দিয়েছিলেন যে, তিনি সবটা দেখবেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি শুধু আমার কাজ দেখে নাও’। আজ তার কাজের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।”

নিহত নাবালিকার এক আত্মীয়ও এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তিনি কঠোর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন। যেটা ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা মৃত্যুদণ্ড, সেই প্রক্রিয়ার দিকেই তিনি এগোবেন বলে আমাদের কথা দিয়েছেন। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনার ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।”

উল্লেখ্য, বারুইপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে প্রথম থেকেই প্রবল জনরোষ তৈরি হয়েছিল। অভিযুক্তের মৃত্যুতে পুলিশি তৎপরতা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এখন নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে পরিবারের এই প্রতিক্রিয়া মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে, যেখানে তাঁরা এনকাউন্টার বা পুলিশের গুলি চালানোকে ন্যায়বিচারেরই এক ধাপ হিসেবে দেখছেন। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনার ফরেনসিক তদন্ত এবং নিয়মমাফিক ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।