১০ ঘণ্টা কাজ, নেই পে-স্লিপ! নয়ডার ‘অদক্ষ’ শ্রমিকদের জীবনের করুণ কাহিনী কি জানবে দেশ?

নয়ডা সেক্টর ৫৫-এর খোডা চক। ভোর সাতটা বাজলেই এখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। হাজার হাজার দিনমজুর কাজের আশায় দাঁড়িয়ে। কারো ভাগ্যে কাজ জোটে, কেউ বা বাড়ি ফেরে খালি হাতে। এর মাঝেই চলে সাইকেলের মিছিল—নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই ছুটছে সেক্টর ৬৩, ৬৪ বা ৬৫-র কারখানাগুলোর দিকে। ১২ ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনির পর মাস শেষে জোটে মাত্র ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা। বছরের পর বছর কাজ করলেও তাঁরা আজীবন ‘অদক্ষ শ্রমিক’—কর্তৃপক্ষের খাতায় তাঁদের উন্নতির কোনো জায়গা নেই।
শ্রম আইনের কবরে অধিকার:
নয়ডার কারখানায় প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) কাটে ঠিকই, কিন্তু শ্রমিকের কাছে কোনো পে-স্লিপ বা পিএফ নম্বর নেই। ডেপুটি লেবার কমিশনার থেকে শুরু করে ইন্সপেক্টররা শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে নির্বিকার। মালিকপক্ষ কোনো নিয়ম মানে না। ২০১৯ সালের পর থেকে বেতন বৃদ্ধি বা ওভারটাইম বন্ধ। ১৩ এপ্রিল নয়ডার রাস্তায় ছড়িয়ে পড়া শ্রমিকদের ক্ষোভ বুঝিয়ে দিয়েছে যে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে তাঁদের।
প্রতাপ ও শামিমের লড়াই:
২০০৮ সালে গোন্ডা থেকে আসা প্রতাপ মিশ্র এখন ১০,৫০০ টাকা আয় করেন। দুই বাচ্চার স্কুলের ফি, ৪,০০০ টাকা ঘরভাড়া আর মহার্ঘ গ্যাসের দামে তাঁর সংসার এখন দিশেহারা। ১০ তলার অফিসে তিনি পিয়ন, ফাইল টানেন, কিন্তু দশম শ্রেণী পাস হওয়া সত্ত্বেও পদোন্নতি পান না। অন্যদিকে মোহাম্মদ শামিম ২০ বছর ধরে মেকানিক হিসেবে কাজ করেও ‘আধা-দক্ষ’ তকমা পাননি। ৫ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার কালোবাজারে ২,৫০০ টাকায় কিনে দিন গুজরান করতে হচ্ছে তাঁকে। ঠিকাদারের অধীনে কাজ করায় শামিম জানেন না তাঁর আসল বেতন কত।
প্রশাসনের চরম অবহেলা:
খোডা কলোনির অদ্ভুত সমস্যা হলো, এর অফিস নয়ডায় কিন্তু প্রশাসন গাজিয়াবাদে। ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে রেশন কার্ড—সবকিছুর জন্য ১৮ কিমি দূরে গাজিয়াবাদ ছুটতে হয়। একদিন ছুটি মানেই একদিনের বেতন কাটা। ৫ লক্ষ শ্রমিকের এই নরকসম জীবনে প্রতিটা দিনই যেন এক একটি লড়াই।