আম আদমি পার্টির (AAP) সাথে দীর্ঘ ২০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন স্বাতী মালিওয়াল। আর দল বদলানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অরবিন্দ কেজরীবালের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিলেন দিল্লির মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন। ছেঁড়া প্যান্ট থেকে কয়েকশো কোটির বিলাসবহুল ‘শীশ মহল’— কেজরীবালের আমূল পরিবর্তনকে ‘দেশদ্রোহিতা’ বলে দেগে দিলেন স্বাতী।
‘নিজের বাড়িতেই আমাকে মার খাইয়েছেন’
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বাতী মালিওয়াল ২০২৪ সালের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরে শিউরে ওঠার মতো দাবি করেন। তিনি বলেন:
“অরবিন্দ কেজরীবাল আমার নিজের বাড়িতেই এক গুন্ডাকে দিয়ে আমাকে মারধর করিয়েছেন। আমি আওয়াজ তোলায় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং এফআইআর তুলে নেওয়ার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। গত দুই বছর দল আমাকে সংসদে কথা বলার সুযোগটুকু দেয়নি। কেজরীবাল আসলে একজন নারীবিদ্বেষী মানুষ।”
ছেঁড়া প্যান্ট থেকে ১০০ কোটির বাংলো
২০১১ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে স্বাতী তীব্র কটাক্ষ করেন কেজরীবালকে। তিনি জানান, যে মানুষটি একসময় জরাজীর্ণ গাড়িতে চড়তেন এবং ২ টাকার কলম ব্যবহার করতেন, ক্ষমতার লোভে আজ তাঁর খোলস বদলে গিয়েছে। স্বাতীর অভিযোগ:
বিলাসবহুল জীবন: সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে কেজরীবাল ১০০ কোটি টাকা খরচ করে রাজকীয় বাংলো বানিয়েছেন।
বিলাসিতার অন্ত নেই: কোটি টাকার কার্পেট থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকার ফ্রিজ ও দামী সোফা— বিলাসিতার সব উপকরণ মজুত সেই ‘শীশ মহলে’।
এটিএম পাঞ্জাব: স্বাতীর দাবি, আম আদমি পার্টি এখন পাঞ্জাব রাজ্যকে নিজেদের ‘ব্যক্তিগত এটিএম’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
মোদীর প্রশংসা ও কেজরীবালকে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা
নিজে কেন বিজেপিতে এলেন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে স্বাতী বলেন, “আমি মোদীজীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করি। তিনি একদিকে যেমন শত্রুর ঘরে ঢুকে মারতে জানেন, অন্যদিকে নারী সংরক্ষণ বিল পাস করে মহিলাদের সম্মান দিয়েছেন।” পাল্টা আক্রমণে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজের মূল নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়, তার থেকে বড় দেশদ্রোহী আর কেউ হতে পারে না।
গতকালই রাঘব চাড্ডা ও হরভজন সিংয়ের মতো হেভিওয়েটদের নিয়ে যে সাত সাংসদ বিজেপি শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেছে আম আদমি পার্টি। আজ স্বাতী মালিওয়ালের এই পাল্টা কামড় দিল্লির রাজনীতিতে কেজরীবালের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।





