২০২৪ সালের সেই অভিশপ্ত আগস্ট। আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। প্রতিবাদের দাবানল যখন রাজ্যজুড়ে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ঘটা করে ঘোষণা করেছিল একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি। যার মূল আকর্ষণ ছিল নারী সুরক্ষার বিশেষ অ্যাপ ‘রাত্তিরের সাথী’। কিন্তু দু’বছর পর আজ প্রশ্ন উঠছে— সেই ‘সাথী’ কি আদেও আছে, নাকি তা কেবল প্রতিশ্রুতির আস্তাকুঁড়েই রয়ে গেল?
কী ছিল এই ‘রাত্তিরের সাথী’ প্রকল্পে?
আরজি কর কাণ্ডের পর স্বাস্থ্য বিভাগ ও নবান্নের তরফে রাতের শিফটে কর্মরত মহিলাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল:
বিপদ সংকেত পাঠাতে সক্ষম একটি হাই-টেক মোবাইল অ্যাপ।
রাতের ডিউটিতে আলাদা রেস্টরুম ও সিসিটিভি নজরদারি।
মহিলা ভলান্টিয়ার মোতায়েন এবং ‘সেফ জোন’ তৈরি।
বাস্তবের কড়চা: মন্ত্রীর উত্তরে ধোঁয়াশা!
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নারী ও শিশু বিকাশ মন্ত্রী ডা. শশী পাঁজাকে যখন এই অ্যাপের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তাঁর উত্তরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন, এই বিষয়ে তিনি উত্তর দিতে পারবেন না, দায়ভার কেবল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। এই সমন্বয়হীনতা প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি বিভাগীয় স্তরেই ফাইল বন্দি হয়ে রয়েছে নারী সুরক্ষার এই কবচ?
আক্রমণে বিজেপি: “কথার ফুলঝুরি দিচ্ছে সরকার”
বিরোধী দল বিজেপি এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে সরকারকে বিঁধতে ছাড়ছে না। গেরুয়া শিবিরের নেতাদের দাবি, আরজি কর কাণ্ডের পর মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করতে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তৃণমূল সরকার। ১৫ বছরের শাসনে নারীদের মৌলিক সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ এই প্রশাসন। বিজেপি নেতৃত্বের কটাক্ষ, “যেখানে রাজ্যে নারী অপরাধ বাড়ছে, সেখানে একটি সামান্য অ্যাপ চালু করতে না পারা প্রশাসনিক দেউলিয়াপনাই প্রমাণ করে।”
ভীত নারী কর্মীরা, অ্যাপের হদিস নেই!
সরকারি হাসপাতাল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক আজও কাটেনি। এক নার্সের কথায়, “অ্যাপের কথা বড় বড় করে বলা হয়েছিল, কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা সেই অ্যাপের কোনও লিঙ্ক বা হদিস পাইনি। রাতে ডিউটি করে ফিরতে গেলে এখনও সেই আগের মতোই একা এবং অরক্ষিত বোধ করি।” যদিও সরকারি তরফে দাবি করা হচ্ছে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসক মহলের অভিযোগ, তার সিংহভাগই কেবল ‘কাগজে-কলমে’। রাস্তায় বা হাসপাতালের করিডরে বাস্তব বদলায়নি।





