রাজনীতির ময়দানে দলবদল লাভদায়ক হলেও, ভার্চুয়াল জগতে তার মাসুল যে এতটা চড়া হবে, তা হয়তো ভাবেননি রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল সংখ্যক অনুগামী বা ‘ফলোয়ার’ হারালেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, তাঁর প্রোফাইল থেকে রাতারাতি সরে গিয়েছেন প্রায় ১ মিলিয়ন বা ১০ লক্ষ অনুরাগী।
১ কোটি ৪৬ লক্ষ থেকে ১ কোটি ৩৪ লক্ষ: ডিজিটাল ধস
৩৭ বছর বয়সী রাঘব চাড্ডা দীর্ঘকাল ধরে তরুণ প্রজন্মের, বিশেষ করে ‘Gen Z’-এর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। গত শুক্রবার বিজেপি সদর দপ্তরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার পর থেকেই তাঁর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে ধস নামতে শুরু করে।
শুক্রবার বিকেল: অনুগামীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৬ লক্ষ।
শনিবার সকাল: তা একধাক্কায় নেমে আসে ১ কোটি ৩৫ লক্ষে।
শনিবার দুপুর: বেলা বাড়তে বাড়তে সেই সংখ্যা ১ কোটি ৩৪ লক্ষে ঠেকেছে।
কেন ক্ষুব্ধ অনুগামীরা?
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাঘবকে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ‘পোস্টার বয়’ হিসেবে দেখতেন। তাঁর হঠাৎ এই দলবদলের সিদ্ধান্তে হতাশ তাঁর একদা ভক্তরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে #UnfollowRaghavChadha ক্যাম্পেইন। নেটিজেনদের একাংশ তাঁকে ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘পাঞ্জাবের গদ্দার’ বলতেও ছাড়ছেন না। এক প্রাক্তন অনুরাগী ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “রাঘবের থেকে একটা জিনিস শিখলাম— ঘি বের করতে আঙুল সত্যিই বাঁকাতে হয়! রাতারাতি রঙ বদলে কোটিপতি হওয়া খুব সহজ।”
বিজেপিতে রাঘবের নতুন ইনিংস
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাঘব চাড্ডা একা নন, তাঁর সঙ্গে আম আদমি পার্টির মোট সাতজন রাজ্যসভা সাংসদ (সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তল, হরভজন সিং প্রমুখ) বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। রাঘবের দাবি, “যে দল দুর্নীতি মোচনের শপথ নিয়ে তৈরি হয়েছিল, আজ তারাই দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছে।” আসন্ন পাঞ্জাব নির্বাচনে বিজেপি রাঘবকে বড় কোনও দায়িত্ব দিতে পারে বলেও জল্পনা তুঙ্গে।
সম্পাদকীয় কলম: ডিজিটাল যুগে নেতার গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি এখন সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার। ইন্টারনেটের আশীর্বাদে রাতারাতি নায়ক হওয়া রাঘব এখন নিজের পুরনো সমর্থকদের কাছেই ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। ১০ লক্ষ মানুষের এই বিমুখতা কি আগামী নির্বাচনে ইভিএম-এও প্রভাব ফেলবে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা রাজনৈতিক মহল।





