পশ্চিমবঙ্গের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগে উত্তপ্ত রাজনৈতিক ময়দান। একদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন প্রথম দফাতেই ১১০টি আসনের দাবি করছেন, ঠিক তখনই পাল্টা চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, প্রথম দফার ভোটে তৃণমূলের ‘মাইনাস’ বা দুর্বল জায়গাগুলোতেও এবার ঘাসফুল শিবির অভাবনীয় লিড পাবে।
মমতার অঙ্ক: “বিজেপি যা ছিল তার অর্ধেকও পাবে না”
শনিবার হাওড়ার রামরাজাতলা থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত পদযাত্রা ও জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী বিজেপিকে তুলোধোনা করেন। তিনি বলেন:
“আমি খবর নিয়েছি, আমাদের যে মাইনাস জায়গাগুলো ছিল, সেখানেও কালকে আমরা এগিয়ে গেছি। বিজেপি অনেক সিটে হারবে। মনে রাখবেন, ওদের যা সিট ছিল এবার তার অর্ধেকও ওরা পাবে না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও কটাক্ষ করে বলেন, হার নিশ্চিত জেনেই অমিত শাহকে এখন বাংলায় পড়ে থেকে প্রশাসনকে ভয় দেখাতে হচ্ছে। ৪ মে’র পর কাউকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও কড়া আক্রমণ শানান তিনি।
অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ তরজা
অমিত শাহ্ দাবি করেছেন, মে মাসের ৫ তারিখের পর ‘অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ’— অর্থাৎ ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমে বিজেপির শাসন কায়েম হবে। এর জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি স্রেফ গর্জনেই সীমাবদ্ধ। তাঁর চ্যালেঞ্জ:
কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর— সব জায়গাতেই বিজেপি ‘গোল্লা’ পাবে।
মালদা ও মুর্শিদাবাদেও তৃণমূলের জয় নিশ্চিত।
প্রথম দফার ‘বাম্পার’ ভোট: লাভ কার?
গত ২৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে বাংলায় প্রায় ৯২ শতাংশের ওপর রেকর্ড ভোট পড়েছে। এই বিপুল জনসমর্থন কার দিকে যাবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। অমিত শাহের দাবি, এই ভোট পরিবর্তনের পক্ষে। অন্যদিকে মমতার দাবি, উন্নয়ন ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুফল পেতেই মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন।
সম্পাদকীয় কলম: প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই শুরু হয়েছে সংখ্যার লড়াই। একদিকে গেরুয়া শিবিরের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’র স্বপ্ন, অন্যদিকে মমতার ‘গোল্লা’ চ্যালেঞ্জ। কার অঙ্ক মিলবে আর কার হিসেব উল্টে যাবে, তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে। তবে দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনের লড়াই যে আরও কঠিন হতে চলেছে, দুই শিবিরের আক্রমণাত্মক মেজাজই তার প্রমাণ।





