দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে ফের একবার ধর্ম ও রাজনীতি মিলেমিশে একাকার হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে। এবার সরাসরি বাগযুদ্ধে জড়ালেন তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সম্প্রতি একটি নির্বাচনী প্রচার সভায় সায়নী ঘোষের গাওয়া একটি গানের লাইন ঘিরেই শুরু হয়েছে এই নতুন বিতর্ক।
কী গেয়েছিলেন সায়নী?
প্রচার মঞ্চে সায়নী ঘোষকে উৎসাহের সঙ্গে একটি গান গাইতে শোনা যায়, যার কথা ছিল— “আমার হৃদয়ে কাবা, চোখে মদিনা”। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হতেই বিজেপির তরফে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ ওঠে, সায়নী একটি নির্দিষ্ট ‘ভোটব্যাঙ্ক’কে তুষ্ট করতেই এই ধরণের মন্তব্য করছেন। অতীতেও সায়নীর শিবলিঙ্গ সংক্রান্ত বিতর্কিত পোস্ট নিয়ে ফের একবার সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির।
হিমন্তের কড়া পাল্টা: “মানসিক সমস্যা রয়েছে”
সায়নীর এই মন্তব্যের জবাবে বরাবরের মতো আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা গেল হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে। তিনি সরাসরি বলেন:
“যাঁরা কাবা-মদিনা নিয়ে কথা বলেন, তাঁদের উচিত ওখানেই স্থায়ীভাবে চলে যাওয়া। ভারতে থাকতে হলে অযোধ্যা নিয়ে কথা বলুন। আজমির শরিফ নিয়ে কথা বললে আমাদের আপত্তি নেই, কিন্তু মদিনা নিয়ে যাদের এত আবেগ, তাঁদের মানসিক সমস্যা রয়েছে বলে আমার মনে হয়।”
হিমন্তের এই মন্তব্য বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিজেপির দাবি, সায়নী ‘অ্যাপীজমেন্ট পলিটিক্স’ বা তোষণ করছেন, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিপন্থী।
মাছের ঝোল ও খাবারের রাজনীতি
বিতর্ক কেবল কাবা-মদিনাতেই থেমে থাকেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে আমিষ বা নন-ভেজ খাবার বন্ধ হয়ে যাবে। এর উত্তরে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন:
“মমতা দিদি যদি আমার সঙ্গে খেতে বসেন, তবে দেখব কে বেশি খায়। আমি ওঁর থেকে অন্তত এক কেজি বেশি খাব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “৪ তারিখে আমরা মাছের ঝোল খাব।”
অসমে বিজেপি ক্ষমতায় থাকলেও কোনও ধর্মীয় খাবার বা খাদ্যাভ্যাসে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের একাংশের দাবি, সায়নী ঘোষ কেবল একটি লোকপ্রিয় গানের লাইন গেয়েছেন। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। বিরোধীরা এটাকে বিকৃত করে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সায়নী সমর্থকদের মতে, এটি সাংসদের ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক অনুভূতি মাত্র।
সম্পাদকীয় কলম: নির্বাচনের মুখে বারবার উঠে আসছে ধর্ম এবং খাদ্যাভ্যাসের কথা। সায়নীর গানের প্রতিবাদে হিমন্তর ‘অযোধ্যা কার্ড’ কি বিজেপির পালে হাওয়া কাড়বে? নাকি ‘মাছের ঝোল’ চ্যালেঞ্জে তৃণমূলের পাল্টা ঘেরাওয়ে বিপাকে পড়বে বিজেপি? উত্তর মিলবে আগামী ৪ঠা মে।





