বিশ্বজুড়ে উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ‘হোরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) নিয়ে শুরু হয়েছে চরম উত্তেজনা। যে মারণাস্ত্রের হদিশ পেতে হিমশিম খাচ্ছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনা, এবার খোদ সেই ভয়ঙ্কর সামুদ্রিক বারুদি মাইন বা ‘নেভাল মাইন’-এর ছবি প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতির লাইফলাইনে বারুদের স্তূপ পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের সংযোগস্থল হোরমুজ প্রণালী বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান লাইফলাইন। পৃথিবীর একটা বিশাল অংশের তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এলাকায় সামান্য সামরিক অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ভয়াবহ মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে। অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাধা দিতে ইরান গোপনে এই জলসীমায় মাইন বিছিয়ে রেখেছে। সম্প্রতি মার্কিন পেন্টাগন দাবি করেছিল যে, মাইন বিছানোর সময় ইরানের কয়েকটি নৌকাকে তারা ধ্বংস করেছে। কিন্তু নতুন এই ছবি প্রকাশের পর মার্কিন ফৌজের নজরদারি ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অস্বস্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, হোরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আমেরিকা বদ্ধপরিকর। পণ্যবাহী জাহাজগুলোর যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে মার্কিন নৌসেনা অবিরাম টহল দিচ্ছে। কিন্তু মার্কিন নজরদারি এড়িয়ে এই বিস্ফোরকগুলো কীভাবে সেখানে পৌঁছাল, তা নিয়ে হোয়াইট হাউসের কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর হয়েছে। যদিও ছবিগুলোর সত্যতা ও লোকেশন নিয়ে এখন তদন্ত চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
যুদ্ধের সলতে পাকানো হচ্ছে কি? একদিকে যখন দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে চুক্তির আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই এই ছবি নতুন করে সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। দক্ষিণ ইরান ও বন্দর আব্বাস অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক অভিযানকে ‘প্ররোচনা’ হিসেবেই দেখছে তেহরান। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, যদি হোরমুজে এই মাইনগুলোর উপস্থিতি প্রমাণিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে। আপাতত পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে আমেরিকা ও তাদের ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলো। হোরমুজ প্রণালী কি তবে আগামী দিনে নতুন কোনো যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে? উত্তর দেবে সময়।





