হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা কি প্রশ্নের মুখে? বন্দুকবাজের হামলায় নীরবতা ভাঙলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসের বাইরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গোলাগুলির ঘটনার পর তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। এবার এই ইস্যুতে নীরবতা ভেঙে ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন বা হোয়াইট হাউস কি আদৌ আর সম্পূর্ণ নিরাপদ? তাঁর মতে, আগামী দিনের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জন্য ওয়াশিংটনে এমন একটি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা হবে দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত এবং দুর্ভেদ্য।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প ঘটনার পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি সিক্রেট সার্ভিস এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দ্রুত ও পেশাদারী প্রতিক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ট্রাম্প জানান, হোয়াইট হাউসের অদূরে একজন সশস্ত্র বন্দুকধারী গুলি চালানো শুরু করলে সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দেন এবং হামলাকারীকে নিকেশ করেন।
ট্রাম্পের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হামলাকারী ওই ব্যক্তির সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস ছিল। শুধু তাই নয়, আমেরিকার এই গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহ্যবাহী ভবনের প্রতি হামলাকারীর একটি অদ্ভুত ও অস্বাভাবিক মোহ কাজ করছিল। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের গুলির ঘটনার ঠিক এক মাস পরেই এই হামলার ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এ ধরনের ঘটনা আবারও প্রমাণ করছে যে হোয়াইট হাউসের চারপাশের নিরাপত্তা বলয়কে আরও নিশ্ছিদ্র ও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।
তবে ট্রাম্পের এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে, যা মূলত তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘বলরুম প্রকল্প’-এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে হোয়াইট হাউসে একটি বিশাল ও আধুনিক বলরুম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের। কিন্তু সম্প্রতি এই প্রকল্পটি বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়েছে। মার্কিন সিনেটের সংসদ সদস্য এলিজাবেথ ম্যাকডোনাফ এই বলরুম প্রকল্পের নিরাপত্তা ও আধুনিকীকরণের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি অর্থায়ন আটকে দিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, এই বিশাল ব্যয়ভার কোনো বড় সরকারি বিলের অন্তর্ভুক্ত করে মেটানো যাবে না।
প্রকল্পটির অর্থায়ন নিয়ে ট্রাম্প এবং বিরোধীদের মধ্যে বিরোধ চরমে। ট্রাম্প শুরুতে দাবি করেছিলেন যে, বলরুমটি ব্যক্তিগত অনুদানে তৈরি হবে। কিন্তু পরে রিপাবলিকান পার্টি হোয়াইট হাউসের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল দাবি করে, যার মধ্যে এই বলরুমের নিরাপত্তাজনিত ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। রিপাবলিকানরা এই বাজেটটিকে সীমান্ত সুরক্ষা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্ধারিত ৭২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিলের সঙ্গে যুক্ত করতে চেয়েছিল। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা এই পরিকল্পনাকে করদাতাদের অর্থের অপচয় বলে তীব্র সমালোচনা করছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, জাতীয় নিরাপত্তার আধুনিকায়ন এবং হোয়াইট হাউসের সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্যই এই ব্যয় অপরিহার্য। এখন দেখার বিষয়, নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পের এই উদ্বেগের পর বলরুম প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়।