হৃতিক রোশনের মতো দেখতে বলেই কি কঙ্গনার এত রাগ? অভিনেত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক ও রসিকতার সুরে মন্তব্য সিজেপির সৌরভ দাসের

বিজেপি সাংসদ তথা জনপ্রিয় অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের একের পর এক ধারালো আক্রমণ ও ব্যক্তিগত কটাক্ষের মুখে পড়েও অবশেষে নিখাদ রসিকতা ও সংযমের অস্ত্রই বেছে নিলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র মুখপাত্র তথা ছাত্রনেতা সৌরভ দাস। সম্প্রতি কঙ্গনা রানাউত জনসমক্ষে সৌরভকে ‘অকর্মণ্য’ এবং ‘বেকার’ বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে কঙ্গনার সেই তীব্র আক্রমণ নিয়ে মুখ খুলে মজাদার অথচ কড়া জবাব দিয়েছেন সৌরভ দাস।

কঙ্গনা কেন হঠাৎ তাঁর ওপর এত চটে গেলেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে একগাল হেসে সৌরভ বলেন, তাঁর এক বন্ধু নাকি তাঁকে এর একটি অদ্ভুত কারণ বুঝিয়ে দিয়েছেন! সৌরভের কথায়, “বন্ধুরা সবাই মেসেজ করে জিজ্ঞেস করছিল, উনি হঠাৎ আমার পেছনে এভাবে উঠে পড়ে লাগলেন কেন? তাদেরই একজন বলল, আমাকে নাকি একটু কম বয়সের হৃতিক রোশনের মতো দেখতে! খবরটা শুনে আমি নিজেই বেশ অবাক হয়েছি। তবে উনি (কঙ্গনা) কেন যে আমার মতো সাধারণ একজনকে আক্রমণ করতে গেলেন, তা সত্যিই বুঝতে পারছি না।”

তবে হৃতিক রোশনের প্রসঙ্গ টেনে বলিউড ‘কুইন’-কে কিছুটা খোঁচা দিলেও, সৌরভ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে অভিনেত্রীর প্রতি তাঁর মনে ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ বা বিদ্বেষ নেই। রাজনৈতিক বা আদর্শগত মতবিরোধকে কখনই ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া উচিত নয়, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে সিজেপি মুখপাত্র বলেন যে, যেকোনো সমস্যার সমাধান পারস্পরিক আলোচনা ও যুক্তির মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরির কথা উল্লেখ করে সৌরভ জানান, “আমি ইতিমধ্যেই আমার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছি, ‘ইয়ো কঙ্গনা, জাস্ট টেক আ চিল পিল। সামনাসামনি বসে আলোচনা করা যাক।’ আসলে সুস্থ গণতন্ত্রের তো এটাই আসল রীতি হওয়া উচিত। আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মানুষ আর একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে চায় না। সংলাপ, আলোচনা ও বিতর্ক ক্রমাগত কমছে। কিন্তু পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আমরা যেকোনো বিষয় নিয়েই তো খোলামেলা কথা বলতে পারি।”

এখানেই থেমে থাকেননি সৌরভ। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে কঙ্গনাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “ওঁর মন্তব্যগুলোর মধ্যে একধরনের তীব্র হতাশা স্পষ্ট ফুটে উঠছে। আজকের তরুণ প্রজন্মের ওপর আক্রমণ শানানোর আগে ওঁর এটা বোঝা উচিত যে, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের প্রতি ওঁর একটা সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।”

কঙ্গনা তাঁকে ‘অকর্মণ্য’ ও ‘বেকার’ বলে অপমান করা সত্ত্বেও তিনি কি অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলতে রাজি আছেন? এই প্রশ্নের জবাবে সিজেপি নেতা স্পষ্ট জানান, তিনি যেকোনো দিন যেকোনো সময় আলোচনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। “কঙ্গনাজি যদি আমার সঙ্গে কথা বলতে চান, উনি যেকোনো সময় আমাকে ফোন করতে পারেন। ওঁর সঙ্গে কথা বলতে আমার বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই।”

একই সঙ্গে তাঁকে নিয়ে করা ‘বেকার’ কটাক্ষের কড়া জবাব দিয়ে অত্যন্ত হালকা চালে সৌরভ বলেন, “কেউ আমাকে বেকার বললে আমার কেন গায়ে লাগবে? আমি কাজ করি, বেকার বসে এভাবে তো আর দেশ বা জীবন চলে না! আসলে আমার মনে হচ্ছে ওঁর গুগলের সার্চ অপশনটাই ওঁর সামনে ভুল তথ্য তুলে ধরছে।”

প্রসঙ্গত, এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বে হওয়া ‘নিট-ইউজি ২০২৬’ (NEET-UG 2026) পরীক্ষার প্রতিবাদ আন্দোলন এবং জেন-জি (Gen-Z) তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে কঙ্গনা রানাউতের করা কিছু অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য থেকে। সৌরভ দাস যখন কঙ্গনার সেই সমস্ত মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন, তখনই বিজেপি সাংসদ বেজায় চটে যান। এর পর পরপর বেশ কয়েকটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি দিয়ে কঙ্গনা সৌরভের ছাত্র পরিচয়ের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ২৮ বছর বয়সে নিজের অর্জিত সাফল্যের বিশাল খতিয়ান তুলে ধরে দাবি করেন যে সৌরভ পুরোপুরি ‘অকর্মণ্য ও বেকার’।

এদিকে রাজনীতির চৌহদ্দি পেরিয়ে এই বাহাস এখন বিনোদন ও মূলধারার মিডিয়ারও প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কঙ্গনার এই ধরনের ব্যক্তিগত ও কুরুচিকর আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ তথা ‘ড্রামা কুইন’ রাখি সাওয়ান্ত এবং জনপ্রিয় অভিনেতা সোনু সুদ। রাখি সোজা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কঙ্গনার মতো একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির মুখে এই ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ একেবারেই শোভা পায় না। অন্যদিকে, অভিনেতা সোনু সুদও স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং সহ-নাগরিকদের সম্পর্কে এ ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।