২০২৬ বিশ্বকাপে কি আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধে? আইএফএবের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে যে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে এবার নতুন মোড় আনল ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড বা আইফ্যাব (IFAB)। টুর্নামেন্ট চলাকালীন মিশর, সুইজারল্যান্ডসহ একাধিক দেশের ফুটবলার, কোচ ও প্রাক্তন তারকারা অভিযোগ করেছিলেন যে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভিএআর (VAR)-এর একাধিক সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষেই গিয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে ফাইনালে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছিল লা আলবিলেস্তেদের, তবে এবার আইএফএবের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা সেই পুরোনো বিতর্ককে আবার নতুন করে উসকে দিয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ম্যাচটি। ৭২ মিনিটে খেলার ফলাফল যখন ১-১ সমতায় ছিল, সেই সময় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারাদেসের চ্যালেঞ্জে বক্সের ভিতরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রিল এম্বোলো। প্রথমে মাঠের রেফারি পারাদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু পরবর্তীতে ভিএআর (VAR) বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সিদ্ধান্ত বদল করা হয়। ফাউলের অভিনয় বা ডাইভিং করার অভিযোগ এনে এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এর ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই সুইস ফরোয়ার্ড। মাত্র ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড আর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। এই ঘটনার পরই রেফারিং নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং সুইস কোচ সরাসরি অভিযোগ করেন যে মেসিদের বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অবশেষে সেই অভিযোগে কার্যত সিলমোহর দিল আইফ্যাব। সংস্থার স্পষ্ট ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বর্তমানে ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ (Mistaken Identity) বা ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানোর নিয়ম কেবল সেই সমস্ত পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য, যেখানে রেফারি ভুলবশত অন্য ফুটবলারকে শাস্তি দিয়েছেন। কিন্তু কোনো ফাউল আদৌ হয়েছিল কি না বা সেটিকে ডাইভিং বলে গণ্য করে আগের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার জন্য এই নিয়মের ব্যবহার আইনসম্মত নয়। আইফ্যাব জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে এম্বোলোর ঘটনায় যেভাবে এই আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুল ছিল।
আইএফএবের এই বিস্ফোরক ব্যাখ্যা সামনে আসার পর ফুটবলের অন্দরে শোরগোল পড়ে গেছে। যদিও সংস্থাটি জানিয়েছে যে ভবিষ্যতে এই নিয়ম আরও স্পষ্ট করা হবে কি না, তা নিয়ে বর্তমানে পর্যালোচনা চলছে। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক পরেই আইএফএবের এই স্বীকারোক্তি ২০২৬ সালের আসরে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া ফেভারিটিজম ও রেফারিং বিতর্ককে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এল।