হিমাচলপ্রদেশে চাঞ্চল্যকর জেই (JE) খুন! বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে মহিলা চিকিৎসক ও তাঁর স্বামী সহ ৪ জন গ্রেফতার

হিমাচল প্রদেশের কুল্লু সাব-ডিভিশনে জলশক্তি বিভাগের এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (জেই)-এর চাঞ্চল্যকর ‘ব্লাইন্ড মার্ডার’ বা রহস্যমৃত্যুর ঘটনার পুরোপুরি পর্দাফাঁস করল পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এক মহিলা চিকিৎসক, তাঁর চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর এবং দেওর— মোট চারজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক তথ্য গোপন রাখলেও, বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক করে এই মামলার সমস্ত চাঞ্চল্যকর বিবরণ প্রকাশ্যে এনেছে এবং অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার কুল্লুতে জলশক্তি বিভাগের ৫২ বছর বয়সি জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার লাভ সিং গুলেরিয়া বিলাসপুরের এইমস (AIIMS Bilaspur)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিবিড় তদন্তে উঠে এসেছে যে, এক মহিলা চিকিৎসকের সঙ্গে কথিত অবৈধ সম্পর্কের সন্দেহের বশেই কুল্লুর গান্ধীনগরে অবস্থিত অফিসের জেই লাভ সিং গুলেরিয়াকে সুপরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর ব্লাইন্ড মার্ডার মামলায় ওই মহিলা চিকিৎসক, তাঁর চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর এবং দেওরের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকেই নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।

জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় কুল্লুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সঞ্জীব চৌহানের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) চার অভিযুক্তকে পাকড়াও করে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত মহিলা চিকিৎসক কুল্লু আঞ্চলিক হাসপাতালেই কর্মরত এবং তাঁর স্বামী লাহৌল-স্পিতিতে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ধৃতদের মধ্যে তিনজনের ইতোমধ্যে বাধ্যতামূলক মেডিক্যাল পরীক্ষাও সম্পন্ন করানো হয়েছে।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কুল্লু সাব-ডিভিশনের জলশক্তি বিভাগে কর্মরত লাভ সিং গুলেরিয়ার সঙ্গে ওই মহিলা চিকিৎসকের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করত তাঁর পরিবার। সেই সন্দেহের জেরেই গত ২৪ জুলাই পানীয় জলের পাইপলাইন পরীক্ষা করার একটি ভুয়া অজুহাতে মহিলা চিকিৎসক তাঁকে গান্ধিনগরের নিজের সরকারি বা ব্যক্তিগত বাসভবনে ডেকে পাঠান। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর মহিলা চিকিৎসকের স্বামী, শ্বশুর এবং দেওর মিলে জেই লাভ সিং গুলেরিয়ার ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। এরপর গুরুতর ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে অফিসের নিকটবর্তী এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।

মাত্র চার দিনের চুলচেরা তদন্ত, মোবাইল কল ডিটেলস রেকর্ড (CDR) এবং অন্যান্য অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের জালে তোলে। এই মামলার তদন্তে ওই বাড়ির গৃহপরিচারিকা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় গৃহপরিচারিকা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ পুলিশকে জানান এবং পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁর গোপন জবানবন্দিও নথিভুক্ত করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শ্বশুর ঘরের ভিতরে জেই লাভ সিং-কে তাঁর পুত্রবধূর সঙ্গে কথিত অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে জেরা করেছিলেন এবং কড়া ভাষায় জানতে চেয়েছিলেন কেন তিনি বারবার তাঁদের বাড়িতে আসতেন।

আধমরা অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিলেন জেই লাভ সিং:
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই গভীর রাত পর্যন্ত লাভ সিং বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তাঁরা প্রথমে তাঁর অফিসের কাছে তাঁর স্কুটিটি দেখতে পান এবং পরবর্তীতে রাস্তার পাশ থেকেই গুরুতর আহত ও জ্ঞানহীন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন। তৎক্ষণাৎ তাঁকে কুল্লু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে বিলাসপুরের এইমসে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে দু’দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

এই রহস্যজনক ব্লাইন্ড মার্ডারের কিনারা করতে কুল্লুর পুলিশ সুপার একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছিলেন। নিহত জেই লাভ সিং গুলেরিয়ার স্ত্রী, কুল্লুর খৌলা এলাকার বাসিন্দা কান্তা দেবী, তাঁর স্বামীর নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জানিয়েছিলেন যে, ২৪ জুলাই গভীর রাত পর্যন্ত তাঁর স্বামী বাড়ি ফেরেননি। অবশেষে পুলিশের দ্রুত ও তৎপর পদক্ষেপে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সমস্ত সত্যতা প্রকাশ্যে এল।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty