দেশে নেই কোনও মাওবাদী! রাজ্যসভায় ঐতিহাসিক ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের, সমস্ত জেলাকে ‘মুক্ত’ বলে দাবি

দেশে আর কোনও মাওবাদী নেই এবং দেশের সমস্ত জেলা সম্পূর্ণভাবে মাওবাদী-মুক্ত বলে রাজ্যসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে জানাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। দিন কয়েক আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন যে ভারত মাওবাদী সন্ত্রাস থেকে মুক্ত। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের মোস্ট ওয়ান্টেড শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরা পুলিশের জালে ধরা পড়ার পরেই এই বিষয়ে রাজ্যসভায় একটি বিস্তারিত ও চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পেশ করল কেন্দ্র।
রাজ্যসভায় লিখিত প্রশ্নের উত্তরে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মাওবাদী সহিংসতার সম্পূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। পেশ করা রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০১৮ সালে দেশের মোট ১২৬টি জেলা মাওবাদী উপদ্রুত বা প্রভাবিত হিসেবে চিহ্নিত ছিল। পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযানের জেরে সেই সংখ্যা কমতে শুরু করে। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেই বছর সারা দেশে ৪৮৬টি মাওবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই সমস্ত হামলায় ১০৭ জন সাধারণ নাগরিক এবং ৩২ জন বীর নিরাপত্তা রক্ষী শহিদ হয়েছিলেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকেই মাওবাদী সহিংসতার এই সংখ্যা পুরোপুরি শূন্যে নেমে এসেছে।
যদিও ২০২৬ সালের মার্চের ঠিক আগে, বছরের প্রথম দুই মাসে দেশজুড়ে মোট ৩৩টি ছোট-বড় হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এর মধ্যে কেবল ছত্তিশগড় রাজ্যেই ১৮টি হামলার ঘটনা ঘটে এবং তাতে ৭ জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি, ঝাড়খণ্ডে ১৩টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ২১ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশিত সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরালা—এই সমস্ত রাজ্যেই মাওবাদী হামলার ঘটনা সম্পূর্ণ শূন্যে পৌঁছেছে।
এদিকে দেশের সমস্ত জেলাকে সরকারিভাবে মাওবাদী-মুক্ত বলে ঘোষণা করা হলেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকতে নারাজ প্রশাসন। অতীতের নাশকতার ইতিহাস এবং মাওবাদী উপস্থিতির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে মোট ৩৭টি জেলাকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৮ মে ছত্তিসগড়ের বাস্তারে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেছিলেন, “আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি, ভারত এখন পুরোপুরি মাওবাদী-মুক্ত।” শাহের এই ঘোষণার পরেও অবশ্য জল্পনা ছিল ঝাড়খণ্ডের মোস্ট ওয়ান্টেড শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরাকে নিয়ে, যিনি সাগর বা সুনির্মল নামেও পরিচিত ছিলেন। ২০০৭ সালে একবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও, ২০০৯ সালে বিহারের লাখিসরাই আদালত চত্বরে সশস্ত্র মাওবাদীরা হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে পালায়। এরপর দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছিল এবং তাঁর মাথার ওপর ১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। সম্প্রতি গোপন খবরের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ধানবাদ-গিরিডি সীমানার মানিয়াদি এলাকা থেকে ঝাড়খণ্ড পুলিশ ও সিআরপিএফ-এর এলিট কোবরা বাহিনীর হাতে অবশেষে গ্রেপ্তার হন সেই কুখ্যাত নেতা বেসরা।