হিসেবের খাতা ঠিক, কিন্তু বাক্স ফাঁকা! রাম মন্দিরের কোটি টাকার কেলেঙ্কারিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা গায়েবের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়। বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT)-এর অন্তর্বর্তী রিপোর্টে উঠে এল চুরির একের পর এক বিস্ফোরক কৌশল। মন্দির চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা ঢেকে, আবার কখনও হিসেবে কারচুপি করে দীর্ঘ সময় ধরে এই চুরি চলছিল বলে অভিযোগ।

চুরির অভিনব কৌশল: তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মীরা সুপরিকল্পিতভাবে চুরি চালাত:

  • সিসিটিভি কারচুপি: টাকা গোনার সময় একজন কর্মী কৌশলে সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আড়াল তৈরি করত, যাতে অন্যজন টাকা সরানোর সুযোগ পায়।

  • হিসেবের ফাঁক: টাকা গোনার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বান্ডিলে অতিরিক্ত নোট ঢুকিয়ে রাখা হতো। কিন্তু হিসেবের সময় শুধু বান্ডিলের সংখ্যা গোনা হতো। পরে ব্যাঙ্কে টাকা জমা দেওয়ার পথে সেই অতিরিক্ত নোটগুলো সরিয়ে ফেলা হতো, ফলে কাগজ-কলমে সব ঠিক থাকলেও আসল টাকা উধাও হয়ে যেত।

  • শৌচাগারে টাকা লুকানোর স্থান: চুরি করা টাকা তৎক্ষণাৎ মন্দিরের বাইরে না নিয়ে গিয়ে প্রাথমিকভাবে মন্দির চত্বরের শৌচাগারের ভেতর লুকিয়ে রাখা হতো। পরে সুযোগ বুঝে তা বাইরে পাচার করা হতো এবং অভিযুক্তদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হতো।

২০২৪ থেকেই সক্রিয় চক্র: সিট-এর অন্তর্বর্তী রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে রাম মন্দির জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকেই এই চক্রটি সক্রিয় ছিল। চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুনের মধ্যে অন্তত ৭০টি চুরির ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট ধরা পড়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

ব্যাঙ্কের হিসেবই ধরিয়ে দিল চোর: মন্দির ট্রাস্টের কর্তাদের সন্দেহ দানা বাঁধে যখন দেখা যায়, প্রতিবার দানবাক্সে ৬-৭ লক্ষ টাকা থাকার কথা থাকলেও ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলে ক্রমাগত বড় অঙ্কের ঘাটতি ধরা পড়ছে। এরপর গোপনে লুকানো ক্যামেরা বসাতেই পুরো কারচুপি প্রকাশ্যে চলে আসে।

এই ঘটনার জেরে নৈতিক দায়ভার নিয়ে মন্দির ট্রাস্টের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন। ইতিমধ্যেই ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আর বড় কোনো প্রভাবশালী যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিট। এই আর্থিক দুর্নীতি রাম মন্দির ট্রাস্টের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হেনেছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।