. ‘হিংসার জবাব হিংসাই!’ ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের, ফের বিশ্বযুদ্ধের দামামা?

পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধের ঘনঘটা। সব জল্পনা ও শান্তি প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়ে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল আমেরিকা ও ইরান। বৃহস্পতিবার ইরান একটি পণ্যবাহী জাহাজে অতর্কিতে হামলা চালালে দীর্ঘদিনের মউ (MoU) চুক্তির শর্ত কার্যত ধুলোয় মিশে যায়। সেই হামলার যোগ্য জবাব দিতে দেরি করেনি মার্কিন বাহিনী। শুক্রবার থেকে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের একটি জাহাজে বড়সড় পাল্টা হামলা চালায় আমেরিকা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কম্যান্ড জানিয়েছে, শুধুমাত্র জাহাজ নয়, ইরানের উপকূলবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম এবং র্যাডার সাইটগুলিকে নিশানা করে লাগাতার আক্রমণ চালানো হচ্ছে।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ইরান সংঘর্ষবিরতি সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছিল, আমরা তাকে সম্মান জানিয়েছি। যদি তাদের কোনো আপত্তি থাকত, তবে তারা ফোন করতে পারত। কিন্তু হিংসার জবাব হিংসাতেই দেওয়া হবে।” ভ্যান্সের এই মন্তব্যের পর ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, তেহরান কিন্তু এই হামলার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। উল্টে ইরানের দাবি, আমেরিকা নিজেই প্রথমে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে এবং মউ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে। ইরান এবং আমেরিকার এই পরস্পরবিরোধী দাবি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলকে গভীর সংকটের মুখে ফেলেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে তাদের একছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকবে। একইসঙ্গে তারা পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিকে সতর্ক করে বলেছে, এই পরিস্থিতিতে যেন কেউ আমেরিকার পক্ষ না নেয়।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই সুইজারল্যান্ডে ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিরা মউ চুক্তি টিকিয়ে রাখতে একান্তে বৈঠক করেছিলেন। সেই আলোচনার পর বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়লেও, বর্তমান জাহাজ হামলার ঘটনা বুঝিয়ে দিল—কূটনীতির টেবিলে শান্তি বজায় রাখা কতটা কঠিন। এই মউ চুক্তি আদৌ টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জেদ এবং পাল্টা মার্কিন আগ্রাসন পরিস্থিতির অভিমুখ ক্রমশ জটিল করে তুলছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সংঘাত যদি অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ না করা যায়, তবে পুরো পশ্চিম এশিয়ায় এক ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনার জন্ম হতে পারে। আপাতত গোটা বিশ্বের নজর এখন হরমুজ প্রণালীর সেই রণক্ষেত্রের দিকে, যেখানে শক্তির লড়াইয়ে সামিল হয়েছে দুই পরাশক্তি।