সাত সকালে মেট্রোয় বড় বিভ্রাট, কালীঘাটে ঝাঁপ দিলেন যাত্রী, দীর্ঘক্ষণ থমকে পরিষেবা

সপ্তাহান্তের সকালেই বড়সড় বিভ্রাটের সাক্ষী রইল কলকাতা মেট্রো। শনিবার সকাল ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ কালীঘাট মেট্রো স্টেশনে লাইনে ঝাঁপ দিয়ে এক ব্যক্তি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার জেরে ব্যস্ততম ব্লু লাইনে পরিষেবা দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয়, যার ফলে চূড়ান্ত ভোগান্তির মুখে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।

সকাল ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ আচমকাই কালীঘাট স্টেশনে ডাউন লাইনে ঝাঁপ দেন এক ব্যক্তি। ঘটনাটি নজরে আসতেই তড়িঘড়ি লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। উদ্ধারকাজ শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। নিরাপত্তার খাতিরে মহানায়ক উত্তম কুমার থেকে ময়দান পর্যন্ত আপ ও ডাউন—উভয় লাইনেই মেট্রো চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

ব্যাহত পরিষেবা ও ভোগান্তি

ঘটনার জেরে সাময়িকভাবে মেট্রো পরিষেবা খণ্ডিত করা হয়:

  • মহানায়ক উত্তম কুমার থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত আপ ও ডাউন মেট্রো চলে।

  • ময়দান থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু রাখা হয়।

  • অবশেষে সকাল ৭টা ৪৪ মিনিট নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সমগ্র ব্লু লাইনে ফের ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

শনিবার বহু অফিস খোলা থাকায় সপ্তাহের অন্য দিনের মতোই স্টেশনে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। টালিগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্টেশনে মেট্রো আটকে পড়ায় যাত্রীরা চরম হেনস্তার শিকার হন। বাধ্য হয়ে অনেকে মেট্রো থেকে নেমে বিকল্প হিসেবে বাস বা ট্যাক্সির আশ্রয় নেন। স্বাভাবিক হলেও স্টেশনে যাত্রীদের থিকথিকে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

কলকাতা মেট্রোয় আত্মহত্যার ঘটনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কালীঘাট স্টেশনে বিশেষ গার্ডরেল থাকা সত্ত্বেও কীভাবে যাত্রীরা লাইনে নেমে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন, তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। প্ল্যাটফর্ম এবং লাইনের মাঝে স্থায়ী পাঁচিল বা স্ক্রিন ডোর না থাকায় এই ধরনের ঝুঁকি বরাবরই থেকে যাচ্ছে। বারংবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির যে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি, তা আজকের এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট।