নারী সুরক্ষায় লালবাজারের কঠোর নির্দেশিকা! পুলিশের জন্য বাধ্যতামূলক ‘LISTEN’ নীতি

নারী নিরাপত্তা ও সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে এবার আরও কঠোর হলো লালবাজার। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা কলকাতা পুলিশের সকল স্তরের অফিসার ও কর্মীদের জন্য এক নয়া নির্দেশিকা জারি করেছেন। মূলত নারী সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে এবং অভিযোগকারীর মর্যাদা রক্ষা করতে এই ছয়টি মূল নীতি বা ‘LISTEN’ প্রোটোকল মেনে চলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘LISTEN’ নীতিমালার মূল বিষয়বস্তু:

L – Listen (ধৈর্য সহকারে শুনুন): অভিযোগকারীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, মাঝপথে বাধা দেবেন না।

I – Inspire Confidence (আস্থা তৈরি করুন): এমন আচরণ করুন যাতে ভুক্তভোগী নিজেকে নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসী মনে করেন।

S – Safeguard Dignity and Privacy (মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষা করুন): সম্মান বজায় রাখুন এবং ব্যক্তিগত তথ্য কঠোরভাবে গোপন রাখুন।

T – Take Prompt Lawful Action (দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিন): অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করুন।

E – Empathise Without Judging (বিচার না করে সহমর্মিতা): ভুক্তভোগীর পরিস্থিতি বুঝুন, কোনো বিচার করবেন না।

N – Never Delay, Discourage or Disclose (বিলম্ব বা তথ্য ফাঁস নয়): অভিযোগ গ্রহণে দেরি করবেন না এবং পরিচয় প্রকাশ করবেন না।

অফিসারদের জন্য করণীয় ও বর্জনীয়:

নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, থানায় কোনো নারী অভিযোগ জানাতে এলে তাঁকে সম্মান দিয়ে স্বাগত জানাতে হবে, বসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং জলের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো পরিস্থিতিতেই অভিযোগকারীকে তাঁর পোশাক, জীবনযাপন বা চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। অশোভন রসিকতা বা কটূক্তি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন নিরিবিলি স্থানে অভিযোগ শোনা হয়। যৌন অপরাধ বা পকসো (POCSO) সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অন্য থানার আওতাধীন ঘটনা হলেও ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) গ্রহণে গড়িমসি করা যাবে না। অভিযোগকারীকে তাঁর আইনি অধিকার সম্পর্কে জানাতে হবে এবং মীমাংসার জন্য কোনোভাবেই চাপ সৃষ্টি করা যাবে না।

পুলিশ কমিশনারের মতে, প্রতিটি যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের পেশাদারিত্ব ও সহমর্মিতাই পারে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে এবং অপরাধের শিকার নারীদের মনে ন্যায়বিচারের ভরসা জোগাতে। এখন থেকে প্রতিটি থানায় ‘দুর্গা শক্তি ডেস্ক’ ও ‘নারী সহায়তা কেন্দ্র’ আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।