TDS কাটা এড়াতে ফর্ম ১৫-জি বা ১৫-এইচ নয়, এখন ভরসা নতুন নিয়ম! কী পরিবর্তন আনল আয়কর দফতর?

আপনার বার্ষিক আয় কি করযোগ্য সীমার নিচে? তাহলে হয়তো আপনি ভাবছেন আইটিআর (ITR) ফাইল করার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই ধারণা আপনার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাঙ্কে রাখা সেভিংস বা ফিক্সড ডিপোজিটের (FD) ওপর পাওয়া সুদের ক্ষেত্রে টিডিএস (TDS) কাটা নিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। আয়করের আওতার নিচে থাকলেও ব্যাঙ্ক প্রায়ই টিডিএস কেটে নেয়। এই ভোগান্তি কমাতে আয়কর দফতর ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে নিয়মে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে।
কীভাবে TDS কাটা এড়ানো সম্ভব?
আগে ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে টিডিএস কাটা আটকাতে ৬০ বছরের কম বয়সীদের জন্য ‘ফর্ম ১৫-জি’ এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ‘ফর্ম ১৫-এইচ’ জমা দিতে হতো। কিন্তু আয়কর আইন, ২০২৫ অনুযায়ী, এই পুরনো ফর্মগুলোর চল উঠে গেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে সমস্ত করদাতাদের জন্য ‘ফর্ম ১২১’ (Form 121) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন আপনার বয়স যা-ই হোক না কেন, যদি আপনার বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকে, তবে কেবল ফর্ম ১২১ জমা দিলেই ব্যাঙ্ক, ইপিএফও (EPFO), বা মিউচুয়াল ফান্ড আপনার সুদের ওপর কোনো টিডিএস কাটবে না। এটি করদাতাদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটিকে অনেক বেশি সহজ ও ঝামেলামুক্ত করে তুলেছে।
ভুলবশত TDS কাটা হলে করণীয়:
অনেক সময় অসাবধানতাবশত সময়মতো ঘোষণা ফর্ম জমা দেওয়া হয় না এবং ব্যাঙ্ক টিডিএস কেটে নেয়। চিন্তার কিছু নেই, এই টাকা ফেরত পাওয়ার আইনি উপায় রয়েছে। আপনার কাটা টিডিএস-এর পরিমাণ জানতে ‘ফর্ম ২৬-এএস’ (Form 26AS) বা অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট (AIS) চেক করুন। এরপর আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিল করার সময় এই সুদের আয়ের সঠিক তথ্য দিন এবং ওই কাটা টিডিএস-এর ক্রেডিট দাবি করুন। যদি আপনার মোট আয় করযোগ্য না হয়, তবে সরকার এই পুরো টাকা আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রিফান্ড হিসেবে ফেরত পাঠিয়ে দেবে।
কেন ITR দাখিল করা জরুরি?
অনেকেই ভুলবশত মনে করেন কর দায় না থাকলে আইটিআর ফাইল করার কোনো দরকার নেই। কিন্তু আয়কর বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এটি একটি বড় ভুল। প্রথমত, সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আপনার যদি কোনো ব্যবসায়িক বা মূলধনী ক্ষতি (Capital Loss) হয়ে থাকে, তবে আইটিআর ফাইল না করলে সেই ক্ষতি আপনি পরের বছরের জন্য ‘ক্যারি ফরোয়ার্ড’ বা বহন করতে পারবেন না। এছাড়া লোন নেওয়া বা বড় কোনো আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও আইটিআর জমার রসিদ প্রমাণের কাজ করে। তাই কর দায় থাকুক বা না থাকুক, আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে বড় বিপদ এড়াতে প্রতি বছর নিয়মিত আইটিআর দাখিল করা বুদ্ধিমানের কাজ।