ছাত্র বিক্ষোভে অবশেষে বরফ গলল! সংসদে মুখ খুলবেন খোদ অমিত শাহ, বড় ঘোষণা সরকারের

দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জট কাটাতে অবশেষে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ছাত্র বিক্ষোভের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এই ইস্যুটিতে সংসদের অন্দরে সবিস্তারে আলোচনা হবে এবং স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর পুঙ্খানুপুঙ্খ জবাব দেবেন। বাদল অধিবেশনের শুরু থেকেই এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে সংসদ চত্বরে যে তীব্র রাজনৈতিক সঙ্ঘর্ষ এবং অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, সরকারের এই ইতিবাচক বার্তার ফলে সেই বরফ যে এবার গলতে শুরু করেছে, তা বলাই বাহুল্য।
লোকসভার বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির (BAC) বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, দেশের বর্তমান ছাত্রসমাজ এবং তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিরোধীদের তরফ থেকে এই বিষয়ে যে সমস্ত প্রশ্ন বা পয়েন্ট তোলা হবে, তার প্রতিটিটির উপযুক্ত ও সন্তোষজনক উত্তর দেওয়া হবে সরকারের পক্ষ থেকে।
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, ছাত্রদের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সরকার একশ শতাংশ প্রস্তুত রয়েছে। বিরোধী শিবিরের তোলা প্রতিটি অভিযোগের জবাব দায়িত্ব নিয়ে দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে। তবে একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলির উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ অনুরোধও রেখেছেন তিনি। রিজিজু স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, যখন সংসদে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ও তার উত্তর দেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে, তখন বিরোধীদের পক্ষ থেকে যেন কোনো রকম বিশৃঙ্খলা বা হাঙ্গামা সৃষ্টি করা না হয়। সংসদের উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রম যাতে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সুচারুভাবে চলতে পারে, সেদিকে বিরোধী দলগুলির কঠোর নজর রাখা উচিত।
এছাড়াও, সংসদের অন্দরে এই বিশেষ বিতর্ক বা ডিবেট ঠিক কত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে এবং এর সম্পূর্ণ রূপরেখা কেমন হবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সমস্ত এখতিয়ার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে লোকসভার স্পিকারের ওপর। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের এই অবস্থান বদলের ফলে দীর্ঘ দিন ধরে চলা সংসদীয় অচলাবস্থা কাটানোর একটা পথ প্রশস্ত হলো। তবে বিরোধীরা এই সুযোগ কতটা সদ্ব্যবহার করে এবং সংসদ কতদূর শান্ত থাকে, সেটাই এখন দেখার মূল বিষয়।