গভীর রাতে মর্মান্তিক কাণ্ড! হস্টেলে ঘুমন্ত অবস্থায় ৬ ছাত্রীকে বিষধর সাপের ছোবল, মৃত ৩

মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলায় এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর রাতে হস্টেলে ঘুমিয়ে থাকা ছয়জন ছাত্রীকে বিষধর সাপে কামড়ানোর ফলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং অপর তিনজন ছাত্রী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় নিহত ছাত্রীদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া এবং এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলির ধানোর তালুকের জাপাতলাই গ্রামের কুম্পারলিঙ্গো কালচারাল এডুকেশনাল রিসার্চ সোসাইটি পরিচালিত একটি বেসরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত আবাসিক আশ্রম স্কুলের হস্টেলে। স্কুল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত রাত আড়াইটে নাগাদ পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছয়জন ছাত্রী একই ঘরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল। সেই সময়েই একটি অত্যন্ত বিষধর সাপ হস্টেলে ঢুকে তাদের একে একে ছোবল মারে। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই স্কুল কর্তৃপক্ষের মধ্যে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে তিন ছাত্রীর মৃত্যু হয় এবং বাকি তিনজন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির দীপিকা লাকরা, অষ্টম শ্রেণির সুস্মিতা মণ্ডল এবং জুনিয়র ক্লাসের ছাত্রী অনু কোরেতি রয়েছে। অন্যদিকে, জেলা হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা বাকি তিনজনের মধ্যে রয়েছে পঞ্চম শ্রেণির দীপিকা মাধবী, ষষ্ঠ শ্রেণির কবিতা কিরাঙ্গা এবং অষ্টম শ্রেণির সমৃদ্ধি নাইতম। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিষের প্রভাব অতিরিক্ত বেশি থাকায় সমৃদ্ধির শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। এই ঘটনার পরেই হস্টেল চত্বরে আবাসিক ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে অভিভাবকরা তীব্র প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
এদিকে, এই হৃদয়বিদারক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা গড়চিরোলি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি অবিলম্বে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ এবং বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন তলব করেছেন। পাশাপাশি, রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী অশোক উইকেয়ও পুরো ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। ছাত্রছাত্রীদের হাসপাতালে পৌঁছাতে বা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদানে কোনো ধরনের দেরি হয়েছিল কি না, তা নিয়েও পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।