মমতার গাড়িতে হামলা নিয়ে বড় মন্তব্য অগ্নিমিত্রার! ‘এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়’, সাফ জানালেন মন্ত্রী

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষের ‘জনরোষ’ বলে অভিহিত করলেও, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে এ ধরনের হামলা চালানো অত্যন্ত অন্যায়। শুধু তাই নয়, বিজেপির নাম করে যদি কেউ এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হালিশহরে গিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে রবিবারের এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আলাদা করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, গত রবিবার হালিশহরে পুলিশি হেফাজতে নিহত তৃণমূল কর্মী বীরজু কেওটের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে সেই সফরে ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। অভিযোগ ওঠে যে, গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই রাস্তায় তাঁদের পথ আটকান স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। শুধু তাই নয়, তৃণমূল সুপ্রিমোর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট, পাথর এবং জুতো ছোঁড়া হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, তাঁকে উদ্দেশ্য করে চরম অশ্রাব্য গালিগালাজ করা হয় এবং ‘ডাকাত রানি’ কিংবা ‘চোর চোর’ স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এমনকি মমতার গাড়িতে কাদা পর্যন্ত লেপে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন যে, অতীতে কেউ যাই ভুল বা অন্যায় করে থাকুন না কেন, তাঁর গাড়িতে কাদা ছোঁড়া বা তাঁকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করা একেবারেই কাম্য নয় এবং এটি কখনই বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অঙ্গ হতে পারে না। অগ্নিমিত্রা পাল আরও বলেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিগত পনেরো বছরে যাই করুন না কেন, তার মানে এই নয় যে সাধারণ মানুষ তাঁকে রাস্তাঘাটে চোর বলে আক্রমণ করবে বা তাঁর দিকে চটি ও কাদা ছুঁড়বে। এটি আমাদের সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং বর্তমান সরকারের সংস্কৃতিতেও এগুলোর কোনো স্থান নেই।
মন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর সুরে সতর্ক করে জানান যে, যাঁরা এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁরা অত্যন্ত অন্যায় করেছেন। রাজ্য সরকার বা দলীয় নেতৃত্বের এর পেছনে কোনো সমর্থন নেই। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, যদি কেউ বিজেপির নাম ব্যবহার করে এসব কাণ্ড ঘটিয়ে ভাবেন যে তিনি দলের তরফ থেকে বাহবা পাবেন, তবে তিনি চরম ভুলের মধ্যে আছেন। এ ধরনের অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তবে মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত সুর শোনা গেছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। এদিন হালিশহরে পৌঁছানোর পর শুভেন্দু অধিকারী সম্পূর্ণভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে একে একটি সত্য়িকারের ‘জনরোষ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেন যে, সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এখানে বাড়তি কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। রবিবারের এই ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ও এককাটায় উত্তর দিয়ে জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই।