হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা ‘অমর সঙ্গী’-র স্রষ্টা সুজিত গুহর, পাশে দাঁড়াতে কাতর আর্তি টলিপাড়ার

বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাণ্ডারি, একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবির জাদুকর পরিচালক সুজিত গুহ এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। যাদবপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রবীণ এই পরিচালক। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে শারীরিক অসুস্থতার চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে আর্থিক অনটন, যা এখন টলিউডের অন্দরমহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সূত্রের খবর, কয়েক সপ্তাহ আগেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ বোধ করায় তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই হঠাৎ অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুনরায় তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। প্রবীণ এই পরিচালকের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা এবং নিয়মিত পরিচর্যার জন্য যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তা বর্তমানে তাঁর পরিবারের পক্ষে বহন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এই সংকটময় মুহূর্তে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে পরিচালকদের সংগঠন। সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল সদস্য এবং শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, পরিচালক অর্কদীপ নাথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি টলিপাড়ার নবনির্বাচিত চার বিধায়কের কাছে সুজিত গুহর চিকিৎসার জন্য দ্রুত সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই টলিপাড়ায় আলোচনার ঝড় উঠেছে।
আশির দশকের বাংলা সিনেমার বক্স অফিস কাঁপানো নাম সুজিত গুহ। বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্রকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে যাওয়ার মূল কারিগরদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তাপস পাল, জিৎ, দেব, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও কোয়েল মল্লিকের মতো তারকাদের সাথে কাজ করে তিনি উপহার দিয়েছেন কালজয়ী সব ছবি। ‘অগ্নিপথ’, ‘গঙ্গা’, ‘মনের মানুষ’, ‘মন্দিরে’, ‘ঝংকার’, ‘আশা ও ভালবাসা’-এর মতো ছবিগুলো আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। বিশেষ করে প্রসেনজিৎ ও বিজয়েতা অভিনীত ‘অমর সঙ্গী’ আজও বাংলা সিনেমার ইতিহাসে একটি আবেগের নাম।
বাংলা চলচ্চিত্রকে এত সমৃদ্ধি ও গৌরব উপহার দেওয়া এই পরিচালক আজ অসহায়। টলিউডের শিল্পী ও কলাকুশলীরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। সবাই চাইছেন, বাংলা সিনেমার এই স্বর্ণযুগের স্রষ্টা যেন আবার সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।