ক্যানসার মোকাবিলায় ‘নতুন দিশা’ যোগব্যায়াম! সুস্থ থাকতে কী পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের?

আধুনিক জীবনের দ্রুতগতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে মানুষ যখন শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতায় জর্জরিত, তখন সুস্থতার নতুন দিশা দেখাচ্ছে যোগব্যায়াম। মারণরোগ ক্যানসার মোকাবিলা থেকে শুরু করে বার্ধক্যেও শরীরকে তরতাজা রাখা— সব ক্ষেত্রেই যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। সম্প্রতি এই বার্তা ছড়িয়ে দিতেই মধ্যমগ্রামের নজরুল শতবার্ষিকী সদনে আয়োজিত হলো এক বিশেষ সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ শিবির।

এই অনুষ্ঠানে যোগব্যায়াম ও প্রাণায়ামের পাশাপাশি নৃত্য, সঙ্গীত ও আবৃত্তির মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যরক্ষার এক অনন্য নজির গড়ে তোলা হয়। আয়োজকদের দাবি, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে যোগের কোনো বিকল্প নেই।

চিকিৎসকদের বিশেষ বার্তা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রায় যোগব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর এক ওষুধ। তাঁদের কথায়, নিয়মিত যোগচর্চা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা ক্যানসারের মতো জটিল রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে রোগীকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। শারীরিক পুনর্বাসন এবং ওষুধের পাশাপাশি যোগাভ্যাস ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর মনের জোর ধরে রাখতে সাহায্য করে।

যোগের ছন্দে প্রাণবন্ত আয়োজন
প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা এই অনুষ্ঠানে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মহিলারা যোগাসন ও প্রাণায়ামের বিভিন্ন ভঙ্গি প্রদর্শন করেন। তাঁদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রশিক্ষক ডালিয়া ভৌমিক ঘোষ বলেন, “যোগব্যায়াম শুধুমাত্র বিশেষ কোনো দিনে প্রদর্শনের বস্তু নয়, এটি হওয়া উচিত প্রতিদিনের অভ্যাসের অংশ। নিয়মিত প্রাণায়াম ও মেডিটেশন শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে।”

অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্যই ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। নিয়মিত যোগাভ্যাস কীভাবে দীর্ঘ ও কর্মক্ষম জীবন নিশ্চিত করে, তা হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়াই ছিল এই শিবিরের মূল উদ্দেশ্য। উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে যোগচর্চাকে দৈনন্দিন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করার বিপুল আগ্রহ দেখা গেছে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাশাপাশি যোগের এই সমন্বিত পথই যে ভবিষ্যতে সুস্থ সমাজের চাবিকাঠি হতে পারে, তা এদিনের অনুষ্ঠান থেকে স্পষ্ট।