হরমুজ প্রণালী বন্ধের আশঙ্কায় কাঁপছে বিশ্ব! ভারতে কি এলপিজি-পেট্রল সঙ্কট অনিবার্য?

ফের উত্তাল পশ্চিম এশিয়া। নতুন করে ইরান ও আমেরিকার সংঘাত শুরু হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ফের জ্বালানি সঙ্কটের কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। রবিবার ইরান ঘোষণা করেছে যে, যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। পাল্টা জবাবে আমেরিকা ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যদিও আমেরিকা দাবি করছে যে প্রণালীটি এখনও খোলা, কিন্তু যুদ্ধের পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী এই হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। স্বাভাবিকভাবেই, এই রুটে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বজুড়ে পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগের?
ভারত তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি করে। হরমুজ প্রণালীর ওপর ভারতের নির্ভরশীলতা অনেকদিনের, তবে সাম্প্রতিক এই সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়েও সরকারি সূত্রের দাবি, ভারতের জ্বালানি সরবরাহ আপাতত স্থিতিশীল। তৈল শোধনাগারগুলিতে অপরিশোধিত তেলের মজুত স্বাভাবিক রয়েছে।

এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতের কৌশলগত বৈচিত্র্য। ভারত এখন শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। রাশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলি থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়িয়েছে ভারত। জুন মাসে ভারতের দৈনিক অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪.৯৩ মিলিয়ন ব্যারেল। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেলের আমদানি আগের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে অনেকটাই সুরক্ষিত রেখেছে।

এলপিজি বা রান্নার গ্যাস নিয়ে দুশ্চিন্তা কি রয়েই গেল?
অতীতে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সময় ভারতে রান্নার গ্যাসের বড়সড় সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। তখন আতঙ্কে অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সিলিন্ডার মজুত করতে শুরু করেছিলেন, যার জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে কঠোর নিয়ম চালু করতে হয়েছিল। যদিও বর্তমানে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক, তবুও নতুন করে হরমুজ প্রণালী বন্ধের খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। কারণ এলপিজির ক্ষেত্রে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা খুবই সীমিত। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে ভারতের গ্যাসের ভাঁড়ারে টান পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তবে সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, আপাতত আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং পরিস্থিতি কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।