হঠাৎ জেএনএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, রাতের অন্ধকারে পর্দাফাঁস অব্যবস্থার!

সরকারি হাসপাতালের অন্দরের আসল চেহারাটা ঠিক কেমন? সাধারণ রোগী বা তাঁদের আত্মীয়দের অভিযোগ কতটা সত্যি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এক অভিনব পথে হাঁটলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ছাত্রীর ছদ্মবেশে তিনি ঝটিকা সফরে পৌঁছলেন কল্যাণীর জেএনএম (JNM) হাসপাতালে। মন্ত্রীর এই হঠাৎ পরিদর্শনে কার্যত তোলপাড় পড়ে গেল হাসপাতাল চত্বরে।

এদিন রাত তখন প্রায় ১২টা। হাসপাতালের করিডোর দিয়ে এক সাধারণ ছাত্রীর বেশে হেঁটে চলছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। নিরাপত্তারক্ষী থেকে শুরু করে হাসপাতালের কর্মীরা—কেউই প্রথম মুহূর্তে বুঝতে পারেননি যে, তাদের সামনে খোদ রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দাঁড়িয়ে রয়েছেন। হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড থেকে শুরু করে হস্টেল—প্রতিটি ব্লকে গিয়ে তিনি সরজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। আর হাসপাতালের এই অন্দরে পা রাখতেই বেরিয়ে আসে ভয়াবহ সব অব্যবস্থার ছবি।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, হাসপাতালের পরিবেশ দেখে তিনি অত্যন্ত হতাশ। তিনি বলেন, “হাসপাতালের প্রতিটি প্রান্তে অপরিচ্ছন্নতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোগীর স্বাস্থ্যের উন্নতির পরিবর্তে, এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগীরা আরও দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।”

সবথেকে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাতের ডিউটিতে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে। মন্ত্রীর দাবি, রাতে হাসপাতালে যে পরিমাণ সিনিয়র চিকিৎসকের উপস্থিত থাকার কথা ছিল, বাস্তবে তার ধারেকাছেও কেউ নেই। জুনিয়র ডাক্তার বা নার্সরা থাকলেও, জরুরি প্রয়োজনে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

শুধু হাসপাতালই নয়, এদিন হস্টেলের পরিস্থিতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। আবাসিক পড়ুয়াদের হস্টেলের শোচনীয় অবস্থা দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মন্ত্রীর এই আচমকা হানা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে এক জোরালো সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান ও ক্ষোভের পর জেএনএম হাসপাতালের প্রশাসনিক স্তরে কোনো পরিবর্তন আসে কি না। হাসপাতালের পরিকাঠামো ঠিক করতে তিনি কী কী পদক্ষেপ নেবেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কল্যাণীসহ সমগ্র নদিয়াবাসী।