স্বাধীনতা দিবসের আগে বড় নাশকতার ছক ফাঁস! পাক জঙ্গি রানাকে সাহায্য করায় তপসিয়া থেকে জালে ধৃত কে?

স্বাধীনতা দিবসের ঠিক প্রাক্কালে বাংলা জুড়ে চাঞ্চল্যকর জঙ্গিযোগের হদিস মিলল। পাকিস্তানি জঙ্গি সন্দেহে ধৃত রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম মামলার তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পাচ্ছে বেঙ্গল এসটিএফ (STF)। ভুয়ো নথি তৈরি করে এবং নানা উপায়ে রানাকে সাহায্য করার অভিযোগে এবার তপসিয়া এলাকা থেকে ইমরান হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ-এর বিশেষ টিম। সূত্রের খবর, জঙ্গি সন্দেহে ধৃত রানা নেপাল থেকে একাধিকবার কলকাতায় এসেছিলেন এবং এই পুরো প্রক্রিয়ায় ইমরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রানাকে জাল পরিচয়পত্র বা নথি তৈরি করে দেওয়ার পাশাপাশি কলকাতায় তার নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার নেপথ্যেও ইমরানের হাত রয়েছে বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসের মাত্র তিন দিন আগে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন হাবড়া থেকে পাকিস্তানি জঙ্গি সন্দেহে রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার কাছ থেকে এ দেশের সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনা তথা ফোর্ট উইলিয়ামের মানচিত্র, ভিডিও এবং বিভিন্ন ছবি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই সমস্ত গোপন তথ্য পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর কাছে পাচার করা হচ্ছিল। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, স্পর্শকাতর এলাকার নকশা এবং ভুয়ো আধার কার্ড বা নকল ভোটার কার্ড তৈরির চক্রের উৎস কোথায়, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক টিম যৌথভাবে জেরা চালাচ্ছে। স্বাধীনতা দিবসের আগে গোটা রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এরই পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত-বিরোধী জেহাদি প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাঙড় থেকে জিন্নাতুল কিবরিয়া ওরফে টুটুল বেগ এবং নোদাখালী থেকে শেখ শফিক নামের দুই ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হয়েছে। ‘মুঘলে আজম’ এবং ‘জিহাদ-ই-সবিবিল্লাহ’ নামের দুটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তারা লাগাতার দেশ ও সরকার বিরোধী উস্কানিমূলক র্যাডিক্যাল ও জেহাদি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিল। ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তান বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।