চোখের পলকে পুড়ে ছাই কোটি টাকার সামগ্রী! শিলিগুড়ির কারখানায় আগুন লাগার কারণ ঘিরে চাঞ্চল্য

শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। সোমবার সকাল ৯টা বেজে ৫ মিনিটে শিলিগুড়ির ব্যস্ত সেবক রোড সংলগ্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় আচমকাই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন বিধ্বংসী রূপ ধারণ করে পুরো কারখানাকে গ্রাস করে নেয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক সামগ্রী এবং দানা মজুত করা ছিল। অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তা ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে কারখানার চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। সেই ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী শহরের দূরদূরান্ত থেকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, যা দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার সময় কারখানায় কাজ করছিলেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। আচমকা আগুন দেখতে পেয়ে প্রথমে আশেপাশের ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে জল ঢেলে আগুন নেভানোর প্রাথমিক চেষ্টা চালান। তবে প্লাস্টিক সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। তা সত্ত্বেও বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে শ্রমিকদের নিরাপদে কারখানা থেকে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়। পাশাপাশি কিছু প্লাস্টিক সামগ্রীও নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে ফেলা হয়, যা বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে।

খবর পাওয়া মাত্রই শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ভক্তিনগর থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর দুটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজ। সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সঙ্গে সঙ্গে সংলগ্ন এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাশের কারখানা ও গুদামগুলিতে যাতে কোনোভাবেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তার জন্য বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দমকলকর্মী ও স্থানীয়দের দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার নিরলস চেষ্টার পর অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কারখানার ভেতরে মজুত কাঁচামাল এবং তৈরি সামগ্রী পুড়ে পুরোপুরি ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এতে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই বিধ্বংসী আগুনে বড়সড় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট সৈয়দ ওয়াকার রাজা এই বিষয়ে জানান, প্লাস্টিকের কারখানায় আগুন লেগেছিল এবং কোনো হতাহতের খবর নেই। আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঠিক কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে বারবার এ ধরনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় সেখানকার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারখানাটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং ফায়ার সেফটি প্রোটোকল মানা হচ্ছিল কি না, তা নিয়েও সন্দিহান স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শী অভিজিৎ কুমার দাস জানান, তিনি যখন অফিসে কাজ করছিলেন, সেই সময় প্লাস্টিকের বল ফাটার শব্দ শুনতে পান। এর আগেও একবার আগুন লেগেছিল যা তিনি দেখেছিলেন, ফলে তাঁর মনে আশঙ্কা জাগে। তিনি তখনই দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং কর্মীদের নিরাপদে বের করে আনতে সাহায্য করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, দমকলের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় দেরি হয়েছিল।

আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করা সম্ভব হয়নি। এটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ঘটেছে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে দমকল বিভাগ ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। ফরেনসিক পরীক্ষার পর আসল রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।