শিয়ালদা-বনগাঁ রুটে এবার এসি লোকালের আভিজাত্য! যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে বড় বদল আনল পূর্ব রেল

শিয়ালদা-বনগাঁ রুটের নিত্যযাত্রীদের জন্য এক খুশির খবর নিয়ে এল পূর্ব রেল। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এবার শিয়ালদা-বারাসত এসি লোকাল পরিষেবা বনগাঁ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। রেল সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০ আগস্ট থেকে এই পরিষেবা বনগাঁ জংশন পর্যন্ত চালু হবে। শিয়ালদা থেকে বনগাঁ পর্যন্ত আরামদায়ক ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দিতে রেল কর্তৃপক্ষ এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন অর্থাৎ সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত নিয়মিত পরিষেবা দেবে, শুধুমাত্র রবিবার পরিষেবা বন্ধ থাকবে।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ৩৩৪৪৯ আপ শিয়ালদা-বনগাঁ এসি লোকাল সকাল ১০:৩৩ মিনিটে শিয়ালদা থেকে ছাড়বে। ট্রেনটি সকাল ১১:১৪ মিনিটে বারাসতে পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে ১ মিনিট বিরতির পর ১১:১৫ মিনিটে বনগাঁর উদ্দেশে রওনা হবে। দুপুর ১২:২৩ মিনিটে ট্রেনটি বনগাঁ জংশনে পৌঁছাবে। যাত্রাপথে এই ট্রেনটি বামনগাছি, দত্তপুকুর, বিরা, অশোকনগর রোড, হাবরা, মসলন্দপুর, গোবরডাঙা, ঠাকুরনগর ও চাঁদপাড়া স্টেশনগুলিতে থামবে।
অন্যদিকে ফিরতি পথে, ৩৩৪৪২ ডাউন বনগাঁ-শিয়ালদা এসি লোকাল দুপুর ১২:৩৫ মিনিটে বনগাঁ থেকে ছাড়বে। ট্রেনটি দুপুর ১:৪০ মিনিটে বারাসত, ১:৪৬ মিনিটে মধ্যমগ্রাম, ১:৫৪ মিনিটে বিরাটি, ২:০০ মিনিটে দমদম ক্যান্টনমেন্ট, ২:০৫ মিনিটে দমদম জংশন এবং ২:১০ মিনিটে বিধাননগর রোড হয়ে দুপুর ২:২৫ মিনিটে শিয়ালদা স্টেশনে পৌঁছাবে।
এসি লোকাল চালুর জেরে আপ বারাসত-বনগাঁ লোকাল ট্রেনের (৩৩৩৬৫) সময়সূচিতেও সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট থেকে ট্রেনটি বারাসত থেকে সকাল ১১:৩০-এর পরিবর্তে ১০ মিনিট দেরিতে, অর্থাৎ ১১:৪০ মিনিটে ছাড়বে। শিয়ালদা ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন যে, যাত্রীদের সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য প্রদান করাই রেলের প্রধান লক্ষ্য।
শিয়ালদহ-বনগাঁ এসি লোকাল ট্রেনটি আধুনিক প্রযুক্তিতে সাজানো হয়েছে। এই ট্রেনে মোট ১২টি কোচ থাকছে। প্রতিটি কোচের কাঠামো স্টেইনলেস স্টিলের এবং এগুলো প্রশস্ত ‘ভেস্টিবিউল গ্যাংওয়ে’র মাধ্যমে যুক্ত, যাতে যাত্রীরা সহজেই এক কোচ থেকে অন্য কোচে যেতে পারেন। এই ইএমইউ (EMU) ট্রেনে ১,১২৬ জন যাত্রী বসতে পারবেন এবং এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি কোচে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ঘোষণা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও যাত্রীদের সুবিধার্থে জিপিএস-ভিত্তিক এলইডি ডিসপ্লে ও টেকসই রাবারের মেঝে ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রেনের দরজাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালক ও গার্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে এবং ট্রেন চলার সময় দরজা বন্ধ থাকবে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাড়তি নিশ্চয়তা দেবে।