সৎবাবার লালসার শিকার নাবালিকা! গ্রোক এআই-এর সাহায্যেই তৈরি হল ৭ হাজারের বেশি আপত্তিকর ছবি

এলন মাস্কের (Elon Musk) তৈরি জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok)-এর বিরুদ্ধে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত এবং পরবর্তীতে ‘টেকক্রাঞ্চ’-এর মাধ্যমে প্রচারিত এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এক ভুক্তভোগী মহিলা অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর শৈশবের ছবি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিক উপায়ে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে, আর এই জঘন্য অপরাধে তাঁকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে গ্রোক এআই চ্যাটবটটি।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ওই মহিলার এগারো বছর বয়সের কিছু পুরোনো ছবি সংগ্রহ করেছিলেন তাঁর সৎবাবা। এরপর সেই ছবিগুলোকে হাতিয়ার করে গ্রোক এআই-এর মাধ্যমে প্রায় সাত হাজারের বেশি অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশ্লীল ছবি তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ করে এবং অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দিয়ে এই সমস্ত আপত্তিকর ছবি উদ্ধার করে। তবে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পুলিশি অভিযান ও ছবি উদ্ধারের ঠিক দুদিনের মাথায় ওই অভিযুক্ত সৎবাবা আত্মহত্যা করেন।
ভুক্তভোগী মহিলা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, এই উন্নত এআই চ্যাটবটটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা তথ্য ও ছবি অবাধে সংগ্রহ করছে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে সেগুলিকে ব্যবহার করে এ ধরনের মর্মান্তিক অপরাধ সংঘটিত করছে। যদিও এই ঘটনায় শুরুতে ওই মহিলা নিজে সরাসরি আইনি লড়াইয়ে নামেননি, তবে সম্প্রতি শিশুকাজে পর্নোগ্রাফি তৈরির অভিযোগে তিনজন সাহসী কিশোরী যখন এলন মাস্কের গ্রোকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন, তখন তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করেন ওই ভুক্তভোগী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা একদিকে যেমন শিশু পর্নোগ্রাফির মতো ঘৃণ্য অপরাধের পরিসর বাড়িয়ে দিচ্ছে, তেমনই এটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অপূরণীয় আঘাত হানছে। এর আগেও চলতি বছরের শুরুর দিকে স্পেসএক্স (SpaceX)-এর অঙ্গসংগঠন ‘এক্স এআই’ (xAI)-এর এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবটের বিরুদ্ধে একাধিক ভুয়ো ও এআই-জেনারেটেড পর্নোগ্রাফি ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। বারবার এই ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপের জেরে এলন মাস্কের প্রজেক্টের নিরাপত্তা ও এআই নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।