দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বইছে তীব্র লু, পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ ইতিমধ্যেই ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। এই অসহনীয় গরমে ছোট ছোট পড়ুয়াদের স্কুলে যাওয়া নিয়ে যেমন উদ্বেগ বাড়ছে, তেমনই বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে গরমের ছুটি (Summer Vacation) নিয়ে। সরকারিভাবে এখনও ছুটির দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও, মে মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ স্কুল বন্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এবারের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। সিলেবাস শেষ করা এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ছুটির বদলে ‘মর্নিং স্কুল’ বা সকালে পঠনপাঠন চালু করার জোরালো দাবি তুললেন শিক্ষকদের একাংশ।
কেন এই দাবি?
শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, গত কয়েক মাসে বিধানসভা নির্বাচন এবং ভোটার তালিকায় এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত কাজের জন্য স্কুলগুলিতে পঠনপাঠন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি দিয়ে দিলে শিক্ষা দিবস বা ‘ওয়ার্কিং ডেস’ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন নির্দিষ্ট সময়ে পাঠ্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে না, অন্যদিকে পড়ুয়ারাও দীর্ঘ বিরতির ফলে পড়াশোনার মান থেকে পিছিয়ে পড়বে।
পুরানো পদ্ধতিতে ফেরার আবেদন:
বাম আমলে গরমের তীব্রতা বাড়লে সকালে স্কুল করানোর রীতি ছিল। তাতে পড়াশোনার ক্ষতিও হতো না, আবার রোদ বাড়ার আগেই পড়ুয়ারা বাড়ি ফিরে যেতে পারত। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি এবং শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের পক্ষ থেকে প্রাথমিক ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে এই একই দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের মতে, ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে পড়ুয়াদের বাড়িতে বসিয়ে না রেখে সকালে ক্লাস করানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
বিকাশ ভবনের প্রতিক্রিয়া:
গত সোমবার বিকাশ ভবনে শিক্ষা সচিবের কাছে এই মর্মে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, এখনই সকালে স্কুল চালুর কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সরকারের নেই। এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, গরমের ছুটি এবং স্কুলের সময়সূচী পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা নির্বাচনের পরেই জানানো হতে পারে। আপাতত নজরে থাকছে মে মাসের আবহাওয়া এবং সরকারি নির্দেশিকা।





