জিভে জল আনা নারিকেল চিংড়ি ভাপা! সেরা স্বাদের এই গোপন রেসিপিটি কি আপনার জানা আছে?

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই পার্বণের আমেজ দ্বিগুণ হয়ে যায় যদি পাতে থাকে রাজকীয় কোনো মাছের পদ। ইলিশের পরেই বাঙালির রসনা তৃপ্তিতে যার স্থান, সে হলো চিংড়ি। মালাইকারি তো অনেক খেয়েছেন, কিন্তু সাবেকিয়ানা আর আভিজাত্যের মিশেলে ‘নারিকেল চিংড়ি ভাপা’র স্বাদ এককথায় অতুলনীয়। গরম ভাতের সাথে এই পদের মাখোমাখো ঝোল আর নারিকেলের মিষ্টতা এক স্বর্গীয় অনুভূতি দেয়। আজ আপনাদের জানাবো একদম প্রফেশনাল স্টাইলে ঘরোয়া উপায়ে নারিকেল চিংড়ি ভাপা তৈরির নিখুঁত রেসিপি।

উপকরণ:

গলদা বা বাগদা চিংড়ি: ৫০০ গ্রাম (ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করা)

কোরানো নারিকেল: ১ কাপ

সাদা ও কালো সরষে বাটা: ২ টেবিল চামচ

পোস্ত বাটা: ১ টেবিল চামচ

টক দই: ৩ টেবিল চামচ (ফেটিয়ে নেওয়া)

কাঁচা লঙ্কা: ৫-৬টি (মাঝখান থেকে চেরা)

সরষের তেল: ৪ টেবিল চামচ (রান্নার প্রাণ)

হলুদ গুঁড়ো: ১ চা চামচ

নুন ও সামান্য চিনি: স্বাদমতো

প্রস্তুত প্রণালী:
প্রথমে চিংড়ি মাছগুলো ধুয়ে হালকা নুন ও হলুদ মাখিয়ে রাখুন। এবার একটি মিক্সার গ্রাইন্ডারে নারিকেল কোরা, সরষে, পোস্ত এবং সামান্য নুন ও ২টো কাঁচা লঙ্কা দিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিন। মনে রাখবেন, সরষে বাটার সময় সামান্য নুন দিলে তা তেতো হওয়ার ভয় থাকে না।

একটি টিফিন বক্স বা ভাপানোর পাত্রে মাছগুলো নিন। এতে তৈরি করা মশলার পেস্ট, ফেটানো টক দই, হলুদ গুঁড়ো, স্বাদমতো নুন ও সামান্য চিনি দিন। এবার ওপর থেকে খাঁটি সরষের তেল ঢেলে দিন। সরষের তেলের ঝাঁঝালো গন্ধই ভাপা রান্নার আসল ম্যাজিক। সমস্ত উপকরণ আলতো হাতে মাছের সাথে মিশিয়ে নিন। ওপর থেকে চেরা কাঁচা লঙ্কাগুলো সাজিয়ে দিন।

এবার একটি বড় কড়াইতে জল দিয়ে তার মাঝখানে একটি স্ট্যান্ড বসান। স্ট্যান্ডের ওপর টিফিন বক্সটি রাখুন। খেয়াল রাখবেন জলের স্তর যেন বক্সের অর্ধেক উচ্চতার নিচে থাকে। কড়াইটি ঢেকে দিয়ে মাঝারি আঁচে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভাপিয়ে নিন। ব্যস, তৈরি আপনার শাহী নারিকেল চিংড়ি ভাপা! পরিবেশনের আগে আরও এক চামচ কাঁচা সরষের তেল ছড়িয়ে দিতে পারেন। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সাথে এই পদের স্বাদ আপনি আজীবন মনে রাখবেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy