সৌরভের পুজোয় ‘আভিজাত্যের অঙ্গীকার’! ৯০ বছরের জমিদার বাড়ির প্রতিচ্ছবি, মণ্ডপ জুড়ে অন্যরকম চমক!

কলকাতায় দুর্গাপূজা মানেই যেমন বাঙালির নস্টালজিয়া, তেমনই এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়-এর নাম। কারণ তার পাড়ার পুজো, অর্থাৎ বড়িশা প্লেয়ার্স কর্নারের পুজো, অনেকের কাছেই ‘সৌরভের পুজো’ নামে পরিচিত। এই বছর ৫৩তম বর্ষে পদার্পণ করল তাদের সর্বজনীন দুর্গোৎসব। মহালয়ার ভোরেই এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ দেবীর চক্ষুদান পর্ব সম্পন্ন হলো।
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুঁই গঙ্গোপাধ্যায় জানান, এ বছর তাদের পুজোর থিম ‘আভিজাত্যের অঙ্গীকার’। এই থিমের মাধ্যমে তারা পুরনো জমিদার বাড়ির আভিজাত্য এবং সেই সময়ের আনন্দমুখর দুর্গাপূজার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরছেন। তিনি বলেন, “আজকের প্রজন্মের ছোটরা জমিদার বাড়ি কেমন ছিল, সেখানকার পুজো কেমন হত, এসব জানে না। আমরা সেই ঐতিহ্যকেই ফিরিয়ে আনতে চাইছি। মায়ের বাপের বাড়িতে আসার আনন্দকেই তুলে ধরা হবে আমাদের মণ্ডপে।”
দাদাময় পুজো: ঢাক থেকে অঞ্জলি, সবেতেই মহারাজ
জুঁই গঙ্গোপাধ্যায় জানান, এই পুজো সৌরভের বাবা প্রয়াত চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়ের হাতে শুরু হয়েছিল। সেই সম্পর্ক আজও অটুট। পুজোয় সৌরভ সাধারণত কলকাতার বাইরে যান না। ঢাক বাজানো থেকে শুরু করে অঞ্জলি, এমনকি বিসর্জনেও তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে পা মেলান। এবারেও তিনি আগে থেকেই বলে দিয়েছেন, ঢাকিদের যেন তাড়াতাড়ি চলে আসার ব্যবস্থা করা হয়, কারণ ঢাকের আওয়াজ তার খুব প্রিয়। জুঁই জানান, সৌরভের মেয়ে সানা এবার কলকাতায় আসছে, তাই দাদার আনন্দ এবার আরও বেশি। তিনি বলেন, “আমাদের পুজো দাদাময়। দাদা অনেক সময় আমাদেরও আগে মণ্ডপে এসে বসে থাকেন, একা একা মায়ের দিকে তাকিয়ে।”
থিম থেকে সামাজিক কাজ: অভিনব উদ্যোগ
এবারের পুজোর থিম এবং প্রতিমা শিল্পী উৎপল ঘোষ। মণ্ডপ সজ্জায় ভেষজ রঙ, প্লাইউড, থার্মোকল এবং শিল্পী হাতে তৈরি নানা প্রপস ব্যবহার করছেন, যা জমিদার বাড়ির পুরনো ইমেজকে তুলে ধরবে।
পুজোর পাশাপাশি সামাজিক কাজেও পিছিয়ে নেই বড়িশা প্লেয়ার্স কর্নার। তারা প্রতি বছর ৪০০ শাড়ি বিতরণ করেন। মহালয়ার দিন ডন বস্কো স্কুলের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তারা চারশো দরিদ্র মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া, পুজোর পাঁচদিন ছয়টি এনজিও-কে খাবার বিতরণ করা হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও রয়েছে বিশেষ চমক। দশমীর দিন পাড়ার কচিকাঁচাদের নিয়ে একটি নাটক পরিবেশিত হবে, যার প্রস্তুতি দু’মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে। জুঁই গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, এই পুজো সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজেই উদ্বোধন করেন, এবং এবারও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন।