সৌদি আরবে ভিক্ষা করলেই সোজা জেল ও নির্বাসন!, পাক নাগরিকদের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার হুমকি

পাকিস্তান থেকে উমরাহ ও কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়া নাগরিকদের একাংশের বিরুদ্ধে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই পরিস্থিতিতে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে এবং কড়া আইনি পদক্ষেপ এড়াতে সৌদি আরবে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাস তাদের নাগরিকদের জন্য একটি বিশেষ ও কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে।

দূতাবাসের কড়া বার্তা ও হুশিয়ারি

সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সৌদি আরবে সফররত পাকিস্তানি তীর্থযাত্রী ও কর্মীদের স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, দেশটিতে ভিক্ষাবৃত্তি বা এই জাতীয় কোনো বেআইনি কার্যকলাপে যেন তারা কেউ যুক্ত না হন। দূতাবাস কঠোরভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ এবং এর অন্যথা হলে স্থানীয় প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের গ্রেফতার, জেল এবং সাজা ভোগের পর নিজ দেশে স্থায়ী নির্বাসনের মুখে পড়তে হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে সৌদি আরবে পুনরায় প্রবেশেরও চিরতরে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

পবিত্র স্থানে একাধিক নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি

বিশেষ করে হারামাইনের পবিত্র স্থানগুলিতে বেশ কিছু নির্দিষ্ট কার্যকলাপের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দূতাবাসের পরামর্শ অনুযায়ী, তীর্থযাত্রীরা যেন এই স্থানগুলিতে নিম্নলিখিত কাজগুলি থেকে বিরত থাকেন:

  • হুইলচেয়ার পরিষেবা প্রদান করা

  • নাপিতের কাজ বা চুল কাটার পরিষেবা দেওয়া

  • আর্থিক অনুদান বা সাহায্য বিতরণ করা

  • অর্থ বিনিময় (Currency Exchange) কিংবা কাউকে টাকা ধার দেওয়া

দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় আহ্বান

পাকিস্তানের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক স্তরে উজ্জ্বল রাখতে দেশের নাগরিকদের সৌদি আরবের কঠোর আইন সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।

উল্লেখ্য, এর আগেও সৌদি আরবে পাকিস্তানি ভিক্ষুকদের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গত বছরের ডিসেম্বরেই প্রায় ৫০ হাজার পাকিস্তানি নাগরিককে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে ফেরত পাঠিয়েছিল সৌদি সরকার। যদিও পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (FIA) দাবি করেছে যে এই আন্তর্জাতিক চক্র ভাঙার চেষ্টা চলছে, তবুও বিদেশে গিয়ে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি পাকিস্তানের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।