টিকিটের দাম বেশি হলেও কেন ছুটছেন যাত্রীরা? বন্দে ভারতের রমরমা ব্যবসার আসল রহস্য প্রকাশ্যে!

ভারতীয় রেলের মুকুটে নতুন সংযোজন বলতেই এখন সবার আগে মাথায় আসে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের (Vande Bharat Express) নাম। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে একের পর এক বন্দে ভারত চালু করছে রেল, বাড়ছে নেটওয়ার্কের পরিধিও। তবে যাত্রীদের দ্রুত যাত্রা বা উন্নত পরিষেবা দেওয়ার বাইরেও এই ট্রেন চালুর নেপথ্যে রয়েছে অত্যন্ত লাভজনক এক ব্যবসায়িক সমীকরণ।
লাভের অঙ্কে কি বলছে পরিসংখ্যান?
রেল সূত্রে প্রাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের আর্থিক পরিসংখ্যান বলছে, ভারতীয় রেলের যাত্রী পরিষেবার অধিকাংশ ক্যাটেগরি এখনও লোকসানে চলছে। যেমন অর্ডিনারি ক্লাসে ২০,৭০৫.৯৪ কোটি টাকা এবং ফার্স্ট ক্লাসে ৪৮.৭৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। কিন্তু ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা প্রিমিয়াম ক্যাটেগরির ক্ষেত্রে।
এসি ৩ টায়ার এবং এসি চেয়ার কার—এই দুটি ক্ষেত্র থেকে দারুণ লাভ করছে রেল। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এসি ৩ টায়ার থেকে ৩,৬৪৫.৪৪ কোটি টাকা লাভ হয়েছে। অন্যদিকে, বন্দে ভারত মূলত এসি চেয়ার কার নির্ভর হওয়ায় এই সেগমেন্টে রেল ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৩৭৬.৭৭ কোটি টাকা লাভ ঘরে তুলেছে, যা বিগত বছরগুলিতে লোকসানের মুখে ছিল।
বাড়ছে যাত্রী সংখ্যা ও স্লিপারের চাহিদা
দ্রুত গতি এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার জন্য সাধারণ মানুষ একটু বেশি ভাড়া দিয়েও প্রিমিয়াম ট্রেন বেছে নিচ্ছেন। পরিসংখ্যান বলছে, শুধুমাত্র ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষেই বন্দে ভারত ট্রেনে প্রায় ৩.৯৮ কোটি যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি।
শুধু চেয়ার কার নয়, সম্প্রতি চালু হওয়া বন্দে ভারত স্লিপার (Vande Bharat Sleeper) ট্রেনগুলিতেও প্রথম তিন মাসে ১০০ শতাংশের বেশি অকুপেন্সি রেট দেখা গিয়েছে। বর্তমানে দেশে ১৬২টি বন্দে ভারত পরিষেবা চালু রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে রেল এই প্রিমিয়াম নেটওয়ার্ককে আরও প্রসারিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।